প্রেস রিলিজ
ধরুন, এক টন ওজনের একটি বস্তু ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দিলে তা অভিকর্ষ বলের কারণে নিচে নামবে। এতে বস্তুটির ১ মিটার নিচে নামার শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা গেল। কিন্তু বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন হচ্ছে ইজিনের ফ্যোংকশ্যাফট ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানোর জন্য বস্তুটিকে আবার ১ মিটার উপরে তুলতে হবে, তখন পুনরায় সমপরিমাণ শক্তি বায় হয়ে যায়। তাহলে শক্তি উৎপাদন কীভাবে সম্ভব?
হ্যাঁ, এখানেই আমার সফলতা এবং এটাই এই উদ্ভাবনের মূলনীভি আমি বস্তুর কার্যকর ওজন শূন্য করে ফেলতে পারি।
দহজ কথায় এই ডেমো প্রোটোটাইপটি লক্ষ্য করুন। আমার এই ইমিনে দুটি চেম্বার থাকবে। প্রথম চেম্বারটি দিয়ে যখন ৬ টন ওজলদহ বস্তুটি নিচে নামবে, তখন সেই শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত হবে। এরপর বস্তুটি যখন অপর চেম্বারে আসবে, তখন এর ৬ টন ওজন শূন্য হয়ে যাবে। ফলে এটিকে পুনরায় উপরে ভুলতে কোনো শক্তি খরচ হবে না। এভাবেই ক্র্যাংকশ্যাফটটি অনবরত ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে পারবে।
ডিনি জানান, তাঁর বক্তব্য শোনার পর মাননীয় মন্ত্রী তাকে ভার প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেন।
আবদুর রহমান সুহাইল বলেন, তিনি সরকারের কাছে কোনো আর্থিক অনুদান, কোনো বিশেষ সুবিধা বা কোনো প্রকল্প চান না। এমনকি পেটেন্ট-সংক্রান্ত সকল ডি ও অন্যান্য বায়ও তিনি নিজেই যহন করতে প্রস্তুভ। তাঁর একমাত্র অনুরোধ হলো-জাতীয় স্বার্থে সরকার পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন টিম গঠন করুক, যারা ভরি Functional Prototype বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁর উদ্ভাবনের সফলতা সম্পর্কে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। তবে তিনি চান না যে, শুধুমাত্র তাঁর দাবির ভিত্তিতে সরকার সময়, অর্থ যা জনবল যায় করুক। তাই ডিনি অনুরোধ করেছেন, সরকার নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের সাধ্যমে প্রযুক্তিটি পরীল্ডা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই পেটেন্ট প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব গ্রহণ করুক।
তিনি জানান, বর্তমানে নিজ উদ্যোগে পোর্টেন্ট আবেদন দাখিল করতে তাঁর অনীহার প্রধান কারণ হলো পেটেন্ট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর আশ্বার সংকট। তাঁর প্রত্যাশা, সরকার নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করে জাতীয় স্বার্থে দিয়াপদভাবে পেটেন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর করবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে তাঁর ল্যাবের আশেপাশে অচেনা ব্যক্তিদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি বা সিদ্ধান্ত আমানো হয়নি।
আবদুর রহমান সুহাইলের বক্তব্য অনুযায়ী, International Energy Agency (IEA)-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বদর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করা হয় এবং একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর দাবি, তাঁর উদ্ভাবিত Gravity Engine বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার প্রযোজনীয়তা বিলুপ্ত হবে এবং বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, Gravity Engine বাস্তবায়িত হলে বিশ্বে জ্বালানি খাতে এক। বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হবে। এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, শিল্প উৎপাদনের ব্যয় কমবে, পণ্যের দাম কমে আসবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি মানবসভ্যভার অর্থনৈতিক, শিল্প, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরো দাবি করেন, উদ্ভাবনটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হতে পারে।
এছাড়াও এই প্রযুক্তি যদি বাস্তবায়িত হয় তবে ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসতে পারে, যখন আগামী প্রজন্ম ইতিহাসে পড়বে যে একসময় লোডশেডিং ছিল, শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে ভেল, গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভর করতে হতো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিও ভুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ছিল।
তিনি বলেন, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার বাংলাদেশ। তিনি চান, বিশ্বের এই সম্ভাব্য বৈপ্লবিক প্রযুক্তির পেটেন্ট ও উন্নয়নের সূচনা বাংলাদেশের মাধ্যমেই হোক। তবে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে বার্থ হয় যা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তাহলে মানবজাতির কল্যাণের স্বার্থে তিনি বিদেশে গিয়ে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁর উদ্ভাবনের পেটেন্ট সম্পন্ন করবেন এবং প্রযুক্তিটি বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।
এছাড়াও আবদুর রহমান সুহাইল জানান, Gravity Engine তাঁর একমাত্র গবেষণা প্রকল্প নয়। তিনি বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও একাধিক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Safety Gadget, Water Boot, Real-Time Translator এবং Robotics Cooker। ভার মভে এসব প্রকল্পের লখ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। তিনি জানান, সর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের গবেষণা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হবে।
ডিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য তিনি সকল সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।









