উচ্চ আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের স্পষ্ট রায় এবং আইনি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আত্তীকৃত নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের তফসিলভুক্ত শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পদায়নের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুনামগঞ্জ মহিলা সরকারি কলেজের ১৯৯৯ সালে আত্তীকৃত এক কর্মকর্তার বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের মাঠে পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদ—অধ্যক্ষ পদে পদায়নের সাম্প্রতিক বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসনের আইনের প্রতি চরম অনাগ্রহ ও খামখেয়ালিপনা, নাকি অনিচ্ছাকৃত ভুল? এমন প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।
মামলার নথি ও বিধিমালা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ১৯৮১ সালের আত্তীকরণ বিধিমালা অনুযায়ী আত্তীকৃত ১৮টি মহিলা কলেজের শিক্ষকরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ আদালত—উভয় বিচার বিভাগেই পরাজিত হন। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও রায় অনুযায়ী তাঁরা নন-ক্যাডার হিসেবে গণ্য। প্রশ্ন ওঠে, আইনিভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘নন-ক্যাডার’ হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর এবং পদোন্নতি পেয়ে সদ্য ‘প্রফেসর’ পদমর্যাদা লাভ করার পরই কীভাবে তিনি একটি রাষ্ট্রের ক্যাডার শিডিউলভুক্ত শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পদায়ন পান?
জেলার সর্ববৃহৎ সরকারি কলেজটিতে যেখানে ১৬, ১৮ এবং ২০তম বিসিএস ব্যাচের জ্যেষ্ঠ, যোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আসা ক্যাডার প্রফেসরগণ কর্মরত আছেন, সেখানে এমন বিতর্কিত পদায়ন চরম বৈষম্য ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। বিসিএস পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে আসা নিয়মিত ক্যাডার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে আদালতের রায়ে পরাজিত নন-ক্যাডার কর্মকর্তাকে তফসিলভুক্ত পদে বসানো কেবল মূল ক্যাডারের অধিকার হরণ নয়, বরং সিভিল সার্ভিস বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যগণ।
জাতীয় শিক্ষানীতি ও ক্যাডার সার্ভিসের সুশাসন বজায় রাখতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অবিলম্বে এই বেআইনি ও বৈষম্যমূলক পদায়ন বাতিল করা উচিত। বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের তফসিলভুক্ত পদগুলোতে কেবল নিয়মিত বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন সুনিশ্চিত করে শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোঃ মহিউদ্দিন,
বিসিএস ( সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা,
শিক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কলাম লেখক।









