এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি মাদরাসায় ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষক কর্তৃক হাত পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জৈনক মেহেদী হাসান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরামপুরের রিয়াদ ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা,তুলাপট্টি তে গত ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুর রহমানের বয়স ১২ বছর।
শিশুটির বর্তমান অভিভাবক ও বড় আব্বা ইউসুফ আলী জানান,তাঁর ছোট ভাইয়ের সন্তান আব্দুর রহমানকে তিনি নিজ দায়িত্বে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন এবং নিয়মিত তার খোঁজ খবর রাখেন। গত ৮ আগস্ট রাতে শিশুটিকে মারধরের ঘটনা জানতে পেরে তিনি দ্রুত মাদরাসায় উপস্থিত হন।
ইউসুফ আলীর দাবি, শিশুটির কাছে ঘটনা জানতে চাইলে সে জানায়, প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক তাকে হাত পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেছেন। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি তাকে দ্রুত বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।
তিনি আরো জানান ওই রাতে তার শিশুসহ প্রায় ১২-১৩ জন শিশুকে মারধর করেছেন। পাশাপাশি তারা আরো অভিযোগ করেছেন বলে তিনি জানান যে, সত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিড়ি সিগারেটও খাওয়া হয়ে থাকে।
ইউসুফ আলী চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে বাসায় নিয়ে আসেন।
শিশুটির অভিভাবক বলেন, “কোনো শিক্ষকই কোনো শিশুকে এভাবে মারধর করতে পারেন না। শিক্ষার নামে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও একাধিক শিশুকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু এ প্রতিষ্ঠান নয়, বিভিন্ন আবাসিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। চেয়ারম্যানের স্বীকারোক্তিতে নতুন প্রশ্ন অভিযোগের বিষয়ে রিয়াদ ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান,মোট পাঁচজন ছাত্রকে মারধর করা হয়েছিল। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,চারজনকে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিকভাবে মারধর করা হলেও একজন শিক্ষার্থীকে “অস্বাভাবিকভাবে” মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মারধরে ব্যবহৃত লাঠিগুলো পরে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ভাবে মারধর করার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো,পাঁচজন শিশুকে কেন মারধর করা হলো এবং সবচেয়ে বেশি মারধরের শিকার শিশুটির ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল? এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকের আস্থায় শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করবে এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হলে তা কেবল শাসনের বিষয় নয়; বরং শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। স্থানীয়দের দাবি,ঘটনাটি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ভাবে শিক্ষক পরিবর্তন বা সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে শেষ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের আরও কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিভাবকদের প্রশ্ন সন্তানকে শিক্ষা নিতে পাঠিয়ে যদি নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে তারা নিরাপদে কোথায় সন্তানকে পাঠাবেন? এ ঘটনায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
Post Views: 90








