নিজস্ব প্রতিবেদক:
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও বর্তমান কমিটি বিলুপ্তির দাবি সংক্রান্ত একটি স্বাক্ষরযুক্ত বক্তব্য সম্প্রতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের নজরে এসেছে। উক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদের পক্ষ থেকে এর সভাপতি পারভেজ খন্দকারের পরামর্শক্রমে সাংগঠনিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দের আলোচনা, সম্মতি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের রেজুলেশনের ভিত্তিতেই “গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ” গঠিত হয়েছে। একই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষদের নেতৃত্ব ও কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিশেষের একক স্বাক্ষর, ব্যক্তিগত মতামত বা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের উল্লেখের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে গঠিত একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্মের কমিটি বা কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অনুমোদিত গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রেজুলেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা অবশ্যই সংগঠনগুলোর সম্মিলিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিষদের সভাপতি পারভেজ খন্দকার বলেন, শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কমিটি বাতিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র, পূর্ববর্তী রেজুলেশন, প্রতিনিধিদের সম্মতি এবং প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তিনি সকল পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের আহ্বান জানান।
পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে গড়ে ওঠা একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। ফলে পরিষদের গঠন, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা বিলুপ্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অনুমোদিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, সম্প্রতি প্রচারিত বক্তব্যের কিছু অংশের কারণে তাদের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ না তুলে তারা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের উৎস, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক বৈধতা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবি ব্যবহার করে শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হওয়া উচিত সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, রেজুলেশন ও গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।
এ অবস্থায় একক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেওয়া পরিষদ বিলুপ্তির ঘোষণাকে গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের বর্তমান নেতৃত্ব সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে বিভ্রান্তিকর, অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা কারও ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল শ্রমিক ফেডারেশন ও আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করে পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া, রেজুলেশন, কমিটি গঠন এবং পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো নথিপত্রসহ উপস্থাপনের কথাও জানানো হয়েছে।
পরিষদের নেতৃবৃন্দের মতে, শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারস্পরিক অভিযোগ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নয়—গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিকদের ঐক্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও জানান, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে তা প্রকাশ্য ও নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে আইনসম্মত ও সাংগঠনিক পদ্ধতিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের সভাপতি পারভেজ খন্দকারের পরামর্শ:
“শ্রমিকদের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কোনো একক বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সাংগঠনিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।”
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ
সভাপতি: পারভেজ খন্দকার
সাধারণ সম্পাদক: মন্ডল








