এ কে এম মাহমুদ রিয়াজ সিনিয়র রিপোর্টার :
মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেছেন, “হয় মাদক ব্যবসা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করবেন, না হয় এলাকা ছাড়বেন—মাঝখানে কোনো অপশন নেই।”
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সদর মডেল থানার উদ্যোগে লাহারকান্দি ইউনিয়নের চাঁদখালী বাজারে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালি ও পথসভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
পথসভায় ওসি ওয়াহিদ পারভেজ আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিকভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।” তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দেন।
এর আগে চাঁদখালী আবদুর রব উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে একটি র্যালি বাজারের প্রধান সড়ক ও গলিগুলো প্রদক্ষিণ করে বাজারের মাঝখানে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লাহারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহব্বতের রশিদ পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক হানিফ ভূঁইয়া, সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাজীব বট্টোচার্জসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি হিসেবে মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ জেলা শহরের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি চুরি, ডাকাতি, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, ওসি ওয়াহিদ পারভেজ সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যাতে সহজে পুলিশের সহায়তা পায়, সে বিষয়ে তিনি আন্তরিক। প্রয়োজনে তিনি অভিযোগকারীদের তার অফিসে ডেকে নিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ডালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির কাছে বাগানের ভেতরে মাদক সেবন ও বিতরণের জন্য নির্মিত একটি ভূগর্ভস্থ টানেল আবিষ্কৃত হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওসি ওয়াহিদ পারভেজ নিশ্চিত করেন যে সেখানে মাদক সেবন করা হতো এবং পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা তা ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানা প্রশাসনের মাদকবিরোধী এই কঠোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









