রংপুর ব্যুরো:
কে আমাদের বংশের বাতি জ্বালাবে। আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম ছিল আমাদের বংশের পরিচয় বহনের শেষ ভরসা। আমার ছোট ভাইয়ের পরিবারের চারজনের সবাই খুন হওয়ায় শুধু একটি পরিবার শেষ হয়নি। আমাদের পুরো বংশই নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ছোট ভাইয়ের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রীয়মই ছিল আমাদের বংশের একমাত্র পুত্র সন্তান।
এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাই বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোহিত। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী তিনি।
গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, তারা চার ভাই ছিলেন। বড় দুই ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। তিনি আর গণপতি চক্রবর্তী বেঁচে ছিলেন। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তার বড় দুই ভাইয়েরও কোনো ছেলে নেই। গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রীয়ম ছিল তাদের বংশের একমাত্র ছেলে সন্তান। তিনি বলেন, প্রীয়মকে খুন করায় পুরো বংশই নির্বিংশ হয়ে গেল। প্রীয়ম বেঁচে থাকলে সেই আমাদের বংশকে বাঁচিয়ে রাখতো।
এখন বংশের বাতি জ্বালানোর মতো আর কেউ রইলো না। গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, ছোট ভাই গণপতি চক্রবর্তী যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল তখন তাদের বাবা হেমন্ত চক্রবর্তী মারা যান। তিনি শৈশবকাল থেকে এলাকায় পুরোহিত্য করেন। তিনি বলেন, আমি পুরোহিত্যে মাধ্যমে উপার্জন করে গণপতি চক্রবর্তীকে পড়ালেখা শিখিয়েছি।
সে সরকারি চাকরি পেয়েছিল। আমাদের সবার খেয়াল রাখতো গণপতি চক্রবর্তী। প্রীয়ম যদি বেঁচে থাকতো তাহলে মনে বল পেতাম। আমার বাবা হেমন্ত চক্রবর্তীর বংশ শেষ। আমার মৃত্যুর পর আমাদের বংশে আর কোনো পুরুষ থাকবে না। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি সপ্তমী চক্রবর্তী বলেন, চাচাতো ভাই প্রীয়ম ছিল আমাদের চোখের মণি।
সে ছিল আমাদের বংশের একমাত্র ভাই। প্রীয়ম বেঁচে নেই এটা ভাবতেই পারছি না। তিনি বলেন, চাচা গণপতি ও তার পরিবারের সবাই খুন হওয়ায় বাবা গোপিনাথ খুবই ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়।








