নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (ডিসিফুড) বিরুদ্ধে ধান ছাঁটাইকরণের বরাদ্দ বিভাজনে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি ২০২৬ বোরো মৌসুমে মিল মালিকদের ধান ছাঁটাইকরণের বরাদ্দ নিয়ে এসব অনিয়ম করা হয়েছে।স্থানীয় একাধিক মিলার বলেন,
২০২৬ বোরো মৌসুমে বোরো ধান ছাঁটাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা চালকল মিলকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে ডিসিফুড এহসানুল হক, কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান, বড় বাবু মশিউর রহমান যোগসাজশ করে জেলার অটো চালকল মিলকে বোরো ২০২৬ ধান ছাঁটাই করার ব্যবস্থা করে দেন। খাদ্য গুদাম হতে চালকলের দুরত্ব বিবেচনায় সরকার ধান ছাঁটাই বিল প্রদান করে থাকে।সেক্ষেত্রে ধান ছাঁটাই বিল পরিশোধে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা অতিরিক্ত গুনতে হবে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, রাজশাহী জেলায় যেসকল উপজেলায় অটো চালকল মিল নাই সে সকল উপজেলায় হ্যাস্কিং চালকল মিল দিয়ে ধান ছাঁটাই করা হলে উক্ত উপজেলায় ধান ছাঁটাই করার কাজে দুরত্ব বিবেচনায় ধান ছাটাই বিল সরকারের কম হতো।কিন্তু রাজশাহী জেলায় যেসকল উপজেলায় অটো চালকল মিল নাই সে সকল উপজেলার ধান অন্য উপজেলার অটো চালকল মিলে ছাঁটাই করায় সরকারের লাখ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।এতে জনগণের রক্ত ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকায় লাভ হচ্ছে কমিশন বাবুদের। খাদ্য বিভাগে এ সব দেখার যেনো কেউ নাই।স্থানীয় মিল মালিকগণ এবিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ধান ছাঁটাইকরণের বরাদ্দ পেতে প্রত্যেক মিল মালিককে আনুঃপাতিক হারে ঘুস দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল মালিক অভিযোগ করেছেন, ধান ছাঁটাইকরণের বরাদ্দ নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে টনপ্রতি ২০০ টাকা হারে ঘুস দিতে হয়েছে।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ৭ হাজার ৩০ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই হিসেবে মিলারদের কাছে থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘুস আদায় করা হয়েছে।
অর্থাৎ জেলায় ৭ হাজার ৩০ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন বোরো ধান বরাদ্দে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করে পকেস্থ করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। আর এই কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বড় বাবু মশিউর রহমান। এই অফিস বড় বাবু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের যত রকমের অবৈধ অর্থের আদায়কারী এবং দুর্নীতির হোতা। তিনি দীর্ঘদিন যাবত একই কর্মস্থলে রয়েছেন। অপরজন কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান দীর্ঘদিন যাবত একই স্থানে কর্মরত থাকলেও তাদের বদলি করা হয়নি। অথচ খাদ্য অধিদপ্তরের বদলি নীতিমালার ক অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, অত্র বিভাগের কোনো কর্মচারী একই স্থানে দুই বছর কোনো ক্ষেত্রে তিন বছরের বেশি কর্মরত থাকতে পারবেন না।
খাদ্য অধিদপ্তরের বদলি নীতিমালা ভঙ্গ করে দুজন কর্মচারী যথাক্রমে অফিস সহকারী বড় বাবু মশিউর রহমান ও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান দীর্ঘদিন যাবত একই চেয়ারে কর্মরত। তারা নিজেরা বহাল তবিয়তে কর্মরত থেকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরটিকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। অথচ তাদের অজ্ঞাত কারণে বদলি করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে ডিবি হারুন স্টাইলে তারা দুপুরে ভাতের হোটেলও চালু করেছেন। সরকারি খাদ্য গুদামের চাল দিয়ে ভাত এবং মিলার ও কিছু
কর্মকর্তার টাকায় মাছ-মাংস দিয়ে প্রতিদিন কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছেন। আর এটি পরিচালনা করেন খাদ্য বিভাগের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান।
গোদাগাড়ী, ভবানীগঞ্জ ও নওহাটা খাদ্য গুদামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়,একটি চক্র গুদাম থেকে ভালো মানের ধান ছাঁটাইয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু তার পরিবর্তে বাহির থেকে হাইব্রিড নিম্মমানের মোটা ও বিভিন্ন প্রকল্পের পুরাতন চাল দিচ্ছে। তারা বলেন, ইতমধ্যে জেলার ভবানীগঞ্জ ও কামারগাঁ খাদ্যগুদামে পুরাতন চাল নেয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।তারা আরো বলেন,গুদাম থেকে নেয়া ধান ও গুদামে দেয়া চালের মান পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।এমনকি খাদ্যবান্ধব, ভিজিডি,টিআর-কাবিখা ইত্যাদি কর্মসুচিতে যে সেদ্ধচাল দেয়া হচ্ছে, সেই ধান জেলায় চাষ হয় না,তাহলে এই চাল গুদামে আসছে কোথা থেকে ? গোপণে তদন্ত করা হলে এসব অভিযোগের সতত্যা পাওয়া যাবে বলে সুত্র জানায়।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ডিসিফুড) এহসানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো ডাহা মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। তিনি বলেন,কেউ অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এসব অপপ্রচার করতে পারেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী বড় বাবু মশিউর রহমান ও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#