হাকিকুল ইসলাম খোকন,মোঃনাসির,
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছে। নতুন অর্ডারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ বিমান।খবর আইবিএননিউজ বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশের ঘোষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে ১৪টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের অর্ডার দেওয়ার পর এটি বিমানের দ্বিতীয় বড় ক্রয়চুক্তি। ফলে এ বছর বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।
বহর আধুনিকায়ন ও রুট সম্প্রসারণ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন বলেন, নতুন সম্পূরক চুক্তিটি বিমানের বহর নবায়ন এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের সংযোগ চাহিদা পূরণে বিমান তার সক্ষমতা বাড়াতে চায়।
নতুন ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইল বা স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে তুলনামূলক বেশি দূরত্বে চলাচলের সক্ষমতা দেবে। অন্যদিকে, ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার যুক্ত হলে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে। এগুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বহরকে আরও শক্তিশালী করবে।
জ্বালানি সাশ্রয় ও আন্তর্জাতিক সংযোগ
বোয়িং জানিয়েছে, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের উড়োজাহাজ পুরোনো প্রজন্মের বিমানের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী। এতে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং পরিবেশগত প্রভাব হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ প্রজন্মের উড়োজাহাজ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়াতে নতুন উড়োজাহাজগুলো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বিমানের প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল, যার ডেলিভারি ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে নির্ধারিত। তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের মূল্য, অর্থায়ন এবং ডেলিভারি সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।









