রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: ছকিনা বেগম বয়স ৫৭ কিংবা ৫৮। এ বয়সেও আরামের ফুরসত নেই। ভোরের আলো ফোটার আগে ছেলের নাশতা তৈরি করেন। এরপর অন্যের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে দিনভর কাজ করেন। সেখানে ভালোমন্দ খাবার রান্না করেন। সেই খাবার তাঁর ভাগ্যে জোটে না। কোনো দিন পোড়া ভাত, কোনো দিন অবশিষ্ট তরকারি। সন্ধ্যায় ফিরে আবার ঘরের কাজে লেগে পড়ে। তাঁর বুকভরা আশা ও রঙ্গিন স্বপ্ন, ছেলে লেখাপড়া শেষ করে প্রকৌশলী হবে। তখন আর এসব কাজ করতে হবে না। এমন একজন মায়ের কথা বলছি যার বাড়ী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের টেংগরজানি গ্রামে। ছকিনা বেগমের স্বামী মন্টু মিয়া ছিলেন কৃষিশ্রমিক। ১০ বছর আগে বিদ্যুৎ¯পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তখন থেকে সংসারের দায়িত্ব পড়ে ছকিনার উপর। তাঁদের তিন মেয়ে, এক ছেলে। তিন মেয়ে মিলি, মিলা ও শিলার বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে সাকিব মিয়া। সাকিব গাইবান্ধার উত্তরবঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ছাত্র। তিনি ক¤িপউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ছেন। মাত্র আড়াই শতক জায়গায় ছকিনার বাড়ি। টিনশেডের ছোট এক ঘরে তাঁদের বসবাস। ভেতরে চৌকি ছাড়া কোনো আসবাব নেই। ছকিনা বলেন, ছেলের পেছনে মাসিক দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক বছর আগে মেয়ে শিলার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আট বছরের ছেলে সিহাবকে নিয়ে শিলা মায়ের সংসারে ঠাঁই নেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে টাকা পান, তা দিয়ে সংসার চলে না। ছকিনা আরও বলেন বাজারোত জিনিসপাতির দাম বারি গেচে। সোংসারই চলব্যার পাচ্চিনে। কত দিন থাকি ছোলগুলেক মাচ গোস্ত খিলব্যার পাইনে। তাক হামার মনে নাই। ইদোত ছোলগুলেক নয়া কাপড়া দিব্যার পাই নাই। ঈদের দিন মানসে একন্যা সেমাই, গোস্তর তরকারি দিচোলো, তাক দিয়া ঈদ পার করচি। পেটোত পাতর বান্দি চলব্যার নাগচি। শুদু ব্যাটাক নেকাপড়া করেয়া মানুষ করব্যার জন্যে। ব্যাটা চাকরি করি ওবাব দূর করবে, সেই আসাত মানসের বাড়িত কাম করব্যার নাগচি। সাকিব মিয়া বলেন, মা কষ্ট করে আমাকে পড়াচ্ছেন। ভালোভাবে লেখাপড়া করছি। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যাবে না। চাকরি করে মায়ের মুখে হাসি ফোটাব। আমার মায়ের মতো মা হয় না।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







