মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চীন থেকে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় কাঁচামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যানসহ সিদ্দিক হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকার মৃত সামছুল আলমের ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন আব্দুল হামিদ সড়কের মোহাম্মদ আলীর কলোনিতে বসবাস করেন। তবে পুলিশের চেকপোস্টে থামার সংকেত পেয়ে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি কাভার্ডভ্যানকে থামার সংকেত দিলে গাড়ি থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন নেমে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তল্লাশি চালিয়ে কাভার্ডভ্যান থেকে ৭০২ বস্তা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি কাঁচামাল ছিল। উদ্ধার করা এসব কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ লাখ টাকা। গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেন উদ্ধার করা কাঁচামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সরকারি শুল্ক ও অন্যান্য বৈধ কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব কাঁচামাল চীন থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান (যশোর-ট-১১-৪৬১১) জব্দ করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি ও ২৫ডি ধারায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেন, পলাতক আনিস রহমান সুলতান (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।









