বরগুনা সংবাদদাতাঃ
বরগুনার তালতলীতে রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা শাখার সদস্যসচিব মংসেলেন তালুকদার। পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে মংসেলেন তালুকদার অভিযোগ করেন, উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি লক্ষ্য করে একটি মহল জবরদখলের চেষ্টা করছে। একই এলাকায় অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের জমি থাকলেও রাখাইনদের জমি দখলের অভিযোগ বেশি সামনে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ২৪০ বছর আগে আরাকান অঞ্চল থেকে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করেন। বর্তমান বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার তালতলী, বালিয়াতলী, রাঙ্গাবালী, মহিপুর ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গম বনজঙ্গল পরিষ্কার করে তাঁরা বসতি ও আবাদি জমি গড়ে তোলেন।
মংসেলেন তালুকদার বলেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে রাখাইনদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জমি দখলের অভিযোগ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, তালতলী পাড়ায় একই দিনে পাঁচটি ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘর থেকে দুটি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনায় রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই নেতা।
মংসেলেন তালুকদার তাঁর পোস্টে বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচতে চান। তাঁরা পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত এই জন্মভূমি ছেড়ে যেতে চান না। এই মাটির সঙ্গে তাঁদের পূর্বপুরুষদের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব ও সম্পত্তি রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে জমি দখল ও চুরির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি।#####
Views: 25
Related