বিবৃতি
“অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন না করা চরম নৈরাজ্যকর ও মানবাধিকার পরিপন্থী”
“অবিলম্বে অধিকারের নিবন্ধন দাও” — মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, আহ্বায়ক, নাগরিক পরিষদ
আজ ১৩ জুন ২০২২ সোমবার নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি সরকার মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নিবন্ধন নবায়নে গড়িমসি করছে। এতে প্রমাণিত হয় সরকার গণমাধ্যমের মতো মানবাধিকার সংগঠন নিয়ন্ত্রণে তৎপর। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের জীবন ও সম্পদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাসের তথ্য জনসম্মুখে প্রচার করা ও বিশ্ববাসীকে সজাগ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার” জনগণ ও গণমাধ্যমের আস্থা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে ইতিমধ্যে গুম—খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। যা আমাদের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পেশাদারিত্বের ফলে সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী দেশ। তাই এ দেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং স্বাধীন ভাবে কাজ করবে এটাই কাম্য। অথচ সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের ফলে গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন না করা এর একটি উদাহরণ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক প্রতিটি দিন গভীর অনিশ্চয়তায় অতিবাহিত করে। গুম—খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, হামলা—মামলা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন গণমাধ্যমের বিকল্প হিসেবে জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে সামরিক কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী—এমপি, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, মানবাধিকার কর্মীসহ অনেকেই গুম—খুন, বিচার বহির্ভূত নির্যাতন, হামলা—মামলা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হতাশাজনক। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নির্বাসিত। প্রধান প্রধান গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় চাপে দিশেহারা। বিচার ব্যবস্থা জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ। এমতাবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো যদি মুক্তভাবে কাজ করতে না পারে জনগণ যাবে কোথায়?
মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, অধিকার গুম—খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের তথ্য উন্মুক্ত করে জনগণের আস্থা—বিশ্বাস অর্জন করেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন অধিকারের নিবন্ধন নবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। আমরা আশা করবো অনতি বিলম্বে অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন করে জনগণের নূন্যতম রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার।







