বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব সম্প্রদায়কে কঠিন
অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি
হ্রাস পেতে পারে বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। যদিও দেশের অর্থনীতির সূচক ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে
বড় ভূমিকা পালন করে আসছে স্থানীয় অর্থনীতি। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বয় করে এ খাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ‘এআরডিএল মডেল অ্যান্ড ডাটা এনভেলপ এনালাইসিস ফর
এপ্লিকেবিলিটি ইন রিসার্স ইন বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সেমিনারে
বক্তারা এসব কথা বলেন।
ভার্চুয়াল সেমিনারটি আয়োজন করে ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস (ডিএসসিই)-এর উদ্যোক্তা
অর্থনীতি ক্লাব। সেমিনারে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যোগ দেন ড. মো ইকবাল ভূঁইয়া, কানাডা থেকে যোগ
দেন প্রফেসর ড.অনুশ্রী পল। তারা এআরডিএল মডেল এবং ডাটা এনভেলপ এনালাইসিসের উপর
প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়া বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাইক্রো ইকোনমিক চ্যালেঞ্জগুলি বিশ্বজুড়েই বড় পরিসরে বির্তকিত।
কেননা বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দেন তা বিশ্বের অঞ্চলভেদে আলাদা। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের
পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বের কিছু অঞ্চলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং টেকসই অর্থনৈতিক
অবস্থার বেশ পতন ঘটিয়েছে। এজন্য অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলির গভীর বিশ্লেষণের
সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ম্যাক্রো-লেভেল সমস্যাগুলির সমাধান প্রয়োজন।
সেমিনারে বক্তারা উদ্যোক্তা বিকাশের জন্য ঢাকা স্কুল অফ ইকোনমিক্সের ভূমিকার উপর জোর দেন।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছু পরিবর্তনশীল প্রতিকূল পরিস্থিতি
বাংলাদেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে বিশ্বে প্রবৃদ্ধির মন্থর অবস্থা দেখা দিতে পারে। যার
জন্য এখনই প্রস্তুত হওয়া উচিত। মুনাফার একটি বড় অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে যায়। এ কারণে
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন সহায়ক নীতি নেয়া
উচিত যাতে কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো মহামারীর পরেও টিকে থাকতে পারে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতে অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে
আলোচনা করেন বক্তারা। এসময় স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়িক ও বাজার
পরিচালনা কৌশল বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন তারা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস (ডিএসসিই)-এর উদ্যোক্তা অর্থনীতি
বিভাগের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের
আর্থ-সামাজিক পরিবেশের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কাজ করা উচিত। কারণ স্থানীয় অর্থনীতির
দৃশ্যপট পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী
করার নতুন পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছে যাতে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। তিনি যুক্তি উপস্থাপন করে দেখান
যে, স্থায়িত্বের জন্য ইকনমেট্রিক সরঞ্জামগুলি নিয়মিত ব্যবহার করা প্রয়োজন। ব্যবসায়িক
বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধানের কৌশল এবং ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে
সাহায্য করে ইকোনোমেট্রিক ব্যবহার। ইকোনোমেট্রিক্স শুধু অর্থনীতির একটি হাতিয়ার নয়।
মার্কেটিং, ফিনান্স, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি বোঝা এবং সঠিক সমাধান পেতে
সাহায্য করে ইকোনোমেট্রিক্স।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস (ডিএসসিই)-এর উদ্যোক্তা অর্থনীতি
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদ্যোক্তা
অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সারা তাসনিম এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্কুল অব
ইকনোমিকস-এর শিক্ষক শামীম আহমেদ।








