প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১। “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে
আসছে। র্যাব সৃষ্টিকাল থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের
গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। র্যাব-৭,
চট্টগ্রাম অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী, ডাকাত, ধর্ষক, দুর্ধষ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী,
অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবরুদ ও মাদক উদ্ধারের
ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম
হয়েছে।
২। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন
১৩নং ওয়ার্ডস্থ পাহাড়তলী আমবাগান এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস সংলগ্ন কাশেম ষ্টোরের
সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় জুয়ারী অবস্থান করে স্মার্টফোন এর ব্রাউজার থেকে জুয়ার
ওয়েবসাইট ব্যবহার করে জুয়া খেলা পরিচালনাসহ বিকাশের মাধ্যমে অবৈধভাবে জুয়ার টাকা লেনদেন
করে আসছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল গত ১৩ জুলাই ২০২২
ইং তারিখ ২৩১০ ঘটিকায় বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ মনির হোসেন
(৩২), পিতা-মৃত মোঃ আবুল কাশেম, সাং-নয়া পুসকুনি, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা,
বর্তমানে সাং-আমবাগান, থানা-খুলশী, চট্টগ্রাম মহানগরকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে
উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামী ডিজিটাল ডিভাইস মোবাইল ব্যবহার করে
অনলাইন জুয়া খেলা সহ জুয়ার টাকা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের কথা অকপটে স্বীকার করে এবং
আসামীর নিজ হাতে দেখানো মতে অনলাইন জুয়া খেলা ও ই-ট্রানজেকশন কাজে ব্যবহৃত ০১ টি
স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং জুয়া খেলার নগদ ৬,৮১০/- টাকা উদ্ধারসহ আসামীকে গ্রেফতার করা
হয়।
৩। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সে অনলাইন জুয়া খেলার
ওয়েবসাইট নবঃ ৩৬৫ এর “জঙণঅখঝ৭৮৮” এবং “ঝধহুধ৩৪৬” এ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে প্রদর্শিত
খেলাধূলার বাজি পরিচালনা করে এবং অজ্ঞাত আরো অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় বাজির টাকা
ডলার ও ভারতীয় মুদ্রায় রুপান্তরিত করে বাজি খেলা পরিচালনা করে আসছে। ধৃত আসামী মনির তার
নিজ নামীয় মোবাইলে হোয়াটস্ধসঢ়;এ্যাপ থেকে জুয়ার বিষয়ে চ্যাটিং সহ নিজ বিকাশ নম্বরে
টাকা লেনদেন করে থাকে। উক্ত এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে অনলাইনে জুয়ার বাজি ধরার টাকা ডলার ও
ভারতীয় মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন ও স্থানান্তর করে থাকে। ধৃত আসামী অনলাইন ভিত্তিক নবঃ ৩৬৫ নামক
ওয়েব সাইটে “জঙণঅখঝ৭৮৮” এবং “ঝধহুধ৩৪৬” এ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম
পরিচালনা করে দেশের প্রভূত আর্থিক ক্ষতি করে আসছে। এই অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে
বাংলাদেশের টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষিদ্ধ লেনদেনসহ
নিয়ম বহির্ভুত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তারা ইলেকট্রনিক তথা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার
করে জুয়া খেলায় অংশ গ্রহন করে ই-ট্রানজেকশন সম্পন্ন করে থাকে।
৪। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী মনির এর মোবাইল ফোন বিশ্লেষন করে অনলাইন জুয়া খেলা
পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ততা, নবঃ ৩৬৫ নামক অনলাইন জুয়া সাইটে আসামীর নিজ নামীয়
“জঙণঅখঝ৭৮৮” এবং “ঝধহুধ৩৪৬” এ্যাকাউন্টস সম্পর্কিত তথ্য, আর্থিক লেনদেনের হিস্ট্রীসহ
আরো অন্যান্য লেখা পাওয়া যায়। এছাড়া আসামীর ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্টে জুয়ার টাকার ই-
ট্রানজেকশন হিস্ট্রী সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। ধৃত আসামী মনির এর ব্যবহৃত “জঙণঅখঝ৭৮৮” নামীয়
এ্যাকাউন্টসে ভারতীয় ২৩১৩.৩৫ রুপি যাহা বাংলাদেশী টাকায় ২৭২৯.৭৫৩/- টাকা এবং
“ঝধহুধ৩৪৬” নামীয় এ্যাকাউন্টসে ০.৩৫ ইউ এস ডলার যাহা বাংলাদেশী টাকায় ৩১/- টাকা জমা
আছে।
৫। উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মনির হোসেন একটি অনলাইন বেটিং রিংয়ে
যোগদান করে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন সাইটের মাধ্যমে অর্থ
উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন গেম ও সাইবার অপরাধে আসক্ত করে। এইভাবে, তারা তাদের চক্রকে
সক্রিয় করে এবং অসহায় বেকার যুবকদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে বিভিন্ন
জায়গায় অনলাইন বেটিং সেশন স্থাপন করে দেশের প্রভূত আর্থিক ক্ষতি করে আসছে।
৬। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।







