রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: আষাঢ়-শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল। আবহাওয়ার পরিবর্তন আর প্রকৃতির বিরূপ আচরণই জানিয়ে দিচ্ছে ঋতুচক্র বর্ষপুঞ্জিতে আটকা পড়েছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে কড়া রোদে লাপাত্তা ঝড়-বৃষ্টি। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় গরম আর তাপদাহে বিমূর্ষ প্রাণ-প্রকৃতি। গত দুই সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে। স্মরণকালের এমন গরমে মানুষসহ হাঁসফাঁস করছে পশু-পাখিও। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকেই। শ্রমজীবি মানুষ জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্ষাঋতুর সর্বগ্রাসী বিরূপ আচরণে রংপুরে বেড়েছে হিট স্ট্রোক, জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। শিশু ও বয়স্করা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকগণ তাপপ্রবাহে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে নি¤œআয়ের মানুষরা পড়েছে বিপাকে। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই কাজে যাচ্ছে তারা। অনেকেই গরম সইতে না পেরে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসমুহে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দিসহ মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে দিনমজুর, শ্রমিকরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। গত তিন দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জনের বেশি রোগি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকরা বলেন, তীব্র তাপদাহের কারণে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশিসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ জন্য ডাবসহ তরল জাতীয় ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। গত কয়েক দিনের অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে থাকায় রংপুর নগরীর সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। শপিংমল, বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলো খোলা থাকলেও নেই ক্রেতাদের সোরগোল। অলস সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পরিবহনের চালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ কর্মজীবী মানুষরা গরম উপেক্ষা করে বের হলেও অনেকেই হাঁসফাঁস করছে। নগরীর শাপলা চত্ত্বরে থ্রি স্টার ফার্মেসিতে ঔষধ ক্রয় করতে আসা মারুফা আক্তার বলেন, বাড়িতে বাচ্চাসহ চারজন অসুস্থ। রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামীম আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৪-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠা নামা করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। এমন পরিস্থিতিতে বেশি করে তরল জাতীয় শরবত, ডাবেরপানি পান করা উচিত। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, গত বৃহ¯পতিবার বিকাল তিনটায় রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত এক সপ্তাহ ধরে রংপুর অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে। তিনি বলেন, সূর্যকিরণ লম্বালম্বিভাবে আসায় গরম তীব্র অনুভব হচ্ছে। গরম বাতাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এ তাপমাত্রা বৃদ্ধি আরও ২/৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।








