রেজোওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-কর্মের অভাবে নতুন সংসার জিবনে সুখ শান্তির স্হলে বিবাহ বিচ্ছেদ ও মাদকাসক্তের ঘটনায় যুবক যুবতীরা অন্ধকার পথে ঝুঁকির মধ্যে জিবন বিচিত্র রুপরেখা দেখা যায়। আজ (৩১ আগষ্ট) দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলার অর্ন্তরালে নতুন সংসারে যুবক যুবতীর সংসার জিবনে দৃশ্য। এমতাবস্থায় জানা যায়,উপজেলার পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নে পর্যবেক্ষণ করা হয়। উক্ত সময়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের বাস্তব সংসার জিবনের হালচাল।
সরকারের বেঁধে দেওয়া আইন মেয়ে ১৮ এবং ছেলের বয়স ২১ বৎসর নির্ধারিত থাকলেও আইন অমান্য করে অনেক অভিভাবক গণ ১২-১৩ বৎসর বয়সেই তাদের ছেলেমেয়েদের বিবাহ প্রদান চলমান রয়েছে। সরকার নারীদের অধিকার আদায় ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি,বেসরকারি ও অনেক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও এ সমস্যা দিনদিন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। এমন অবস্থায় ছেলেদের ঘাড়ে পড়ছে অনেক দ্বায়িত্ব। নতুন সংসার অনেক দ্বায়িত্ব নিয়ে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে যে কোন কর্মের সন্ধান। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহার উপজেলায় নেই তেমন কোন কর্মের জায়গা। নতুন সংসারের চাহিদা মেটাতে অক্ষম হয়ে পড়ছেন অনেক যুবক।
প্রায় ছেলেরা নতুন সংসারে পা রাখার দ্বায়ে প্রায় ছেলেরা কর্মের খোঁজে বিভিন্ন স্হানে পাড়ি দিয়েও তেমন কোন কর্মের সন্ধান মিলছেনা। একদিকে নতুন সংসার তথা তার স্ত্রীর খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মহীন যুবকের দল। কঠিন অভাবে ছেয়ে গেছে তাদের সংসার। এরই ফলে নিত্যদিনে বেড়েই চলেছে সংসারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহের দৃশ্য। একপর্যায় ছেলে গুলো অন্ধকার জিবন নেশার কবলে ঝুকে পড়ছেন। অপরদিকে নতুন বিয়ে করা একালের বউ তার স্বামীর নিকট পূর্ণ চাহিদার চাপ সৃষ্টি করেই চলেছে। চাহিদা মেটাতে না পারায় তারা ঝুকে পড়ছে পরকিয়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় সুযোগ নিচ্ছে সমাজের কিছু স্বার্থপর মানুষের দল। বিভিন্ন প্রলোভনে পরকিয়ায় স্বীকার হচ্ছে,সংসারের নতুন বউ। এমন কারনেও ভেঙ্গে যাচ্ছে একের পর এক সংসার।
গ্রামের অনেক উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পরিবারে এসব সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলেও অনেক ভুক্তভোগিরা সমালোচনার ভয়ে মুখ খুলছেনা। এসব ভূক্তভোগিরা এখন নিভৃতে কাঁদছে চার দেয়ালের বন্দিশালায়। এবিষয়ে স্হানীয় পাড়া মহল্লায় বসবাসরত যুবকদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন,আমরা এখন সমাজের বোঝা। নতুন বিয়ে করে নেই কোন কর্ম কি করে চলবে আমাদের সংসার এমনই চিন্তা তাদের কে দেবে তাদের একটি কর্ম। তার আরও বলেন সরকার ও সরকার দলীয় যারা নেতারা রয়েছেন তারা আমাদের বেকারদের জন্য কর্মের কোন রকম ব্যবস্হা করে নাই।
তারা ইচ্ছে করলেই এলাকায় এমন কর্মের কিছু প্রতিষ্ঠান করতে পারে। তাদের নতুন সংসারের কি দৃশ্য প্রতি রাতে নেশা করে ঘরে ফেরেন স্বামী। পান থেকে চুন ঘসতেই স্ত্রীর গায়ে হাত প্রতিবাদ করলেই স্ত্রী উপর চলে সারারাত অমানবিক নির্যাতন। এমন নির্যাতনে মায়ের শরীরে আঘাতের শব্দ শুনতে পায় পাশের ঘরে থাকা অবুঝ সন্তান। কি করবে মা নি:শব্দে চোখের জল ফেলে কাঁদে মা-সন্তান। সন্তানের ভবিষ্যত ভেবে নিরবে সহ্য করেন অত্যাচার,কাটে নির্ঘম রাত। পরিবার আর সমাজপতিদের নিকট সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কত নারী। অনেকটা নিরুপায় হয়েই স্বামী-সন্তান রেখে বাবার বাড়িতে চলে আসেন অনেক স্ত্রী। সংসার টিকে রাখার মত একটি কাজ তাদের খুবই প্রয়োজন কিন্তু কাজ তাদের আওতার অনেক আড়ালে।
আমাদের এই আসন দিনাজপুর -৬,বর্তমানে জাতীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এমপি হিসাবে দ্বায়িত্ব নিয়ে আছেন। তিনি আমাদের বিরামপুর উপজেলা সহ অপর উপজেলা গুলোতে বেকারদের জন্য কোন প্রকার কর্মের ব্যবস্হা করেন নাই। তিনি ইচ্ছে করলেই উপজেলা ভিত্তিক এমন কর্মের প্রতিষ্ঠান করতে পারত,কিন্তু তা তিনি করেননি।
শুধু নির্বাচন আসলেই অনেক প্রতিশ্রুতির গল্প তাদের মুখে। কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই। ক্ষমতা পাওয়ার পর তারা কিভাবে ভবিষ্যতে ভালো থাকতে পারবেন,তাদের ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত করতে পারবে শুধু একই চিন্তা। কখনও তারা ভাবেই নাই ঐ পাড়া গুলোর মানুষ গুলো কি অবস্থায় আছে। এবিষয়ে ভূক্তভোগীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট উপজেলা ভিত্তিক কর্মের প্রতিষ্ঠান তৈরী করার জোর দাবি জানান।
এবিষয়ে উপজেলার বিশ্লেষক গণের মতামত,বিরামপুর উপজেলা সহ প্রতিটি উপজেলা শহরে বেকারদের জন্য তৈরি হোক কর্মের প্রতিষ্ঠান।
তবেই প্রতিটি পাড়া মহল্লা সহ সকল এলাকায় রোধ পাবে পরকিয়া ফিরে আসবে নব-নিযুক্ত সংসারে শান্তি,কমে যাবে মাদকাসক্তের সংখ্যা। কর্মের কোন ব্যবস্হা না থাকায় বেকারের দল নতুন সংসার জিবনে প্রবেশ করা সংসারে বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। চলতি বছরের এক সমিক্খায় অত্র উপজেলায় দেখা যায়, (২০২২) জানুয়ারি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত বিরামপুর উপজেলায় ১৭৫টি বিবাহ বিচ্ছেদের (চূড়ান্ত তালাক) নোটিশ এসেছে।
উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে,গত ৮ মাসে মুকুন্দপুর ইউনিয়নে ৯টি,কাটলা ইউনিয়নে ৩১টি, খাঁনপুর ইউনিয়নে ৮টি,দিওড় ইউনিয়নে ১৩টি,বিনাইল ইউনিয়নে ১০টি, জোতবানী ইউনিয়নে ১৫টি ও পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নে ১০টি চূড়ান্ত বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ এসেছে।বিরামপুর পৌরসভায় বিবাহ বিচ্ছেদ নোটিশ এসেছে ২৮টি। এরমধ্যে জানুয়ারি মাসে ২৫টি,ফেব্রয়ারি মাসে ২৩টি,মার্চ মাসে ২৩টি,এপ্রিল মাসে ২২টি ও মে মাসে ১৫টি,জুন মাসে ১২টি,জুলাই মাসে ২৩টি,আগষ্ট মাসে ১৮টি নোটিশ হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া বিরামপুর উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে প্রায় ৬৩টি।
ইউনিয়ন পরিষদ,পৌরসভা ও ইউনিয়নে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্টার সুত্রে জানা যায়,গত ৮ মাসে ১৭৫টি বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্যে ৯৫ ভাগই স্ত্রী পক্ষ থেকে তাদের স্বামীকে তালাক দেয়া হয়েছে। এসব বিবাহ বিচ্ছেদের প্রধান কারণ কর্মের ব্যবস্হা না থাকায় লিপ্ত হয়ে পড়ে মাদকাসক্তে এই জন্যই স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে অত্যাচার,যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার ক্রমান্বয়ে পরকিয়া জড়িয়ে পড়ে ভেঙে যায় সংসার। অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়ন,চাকরিজীবি ও স্বাবলম্বী নারী কর্তৃক স্বামীকে পাত্তা না দেয়া,স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্ত্রীর পরকিয়ার ঘটনায় বিবাহ বিচ্ছেদের বাস্তব চিত্রও কম নয়।
এছাড়া বাল্যবিবাহের পর স্বামীর সংসারে নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মানিয়ে নিতে না পারার কারণেও বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। পরবর্তীতে এসব নারীরা দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে পড়ছেন সামাজিক বিড়ম্বনায়। এবিষয়ে দিনাজপুর জেলা রেজিস্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে বিরামপুর উপজেলায় ৯৫২টি বিবাহ নিবন্ধন হয়। এর মধ্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন হয় ২২টি। আর বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধন হয় ৪৮৫টি। বিরামপুর উপজেলার নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্টারগণের তথ্যমতে,চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দুই শতাধিক চ‚ড়ান্ত বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধন হয়েছে।
বিরামপুর পৌরসভা সূত্র মতে জানা যায়, গত জুন পর্যন্ত বিরামপুর পৌরসভায় ৩৭টি চূড়ান্ত বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ এসেছে।
আর ৩৭টি নোটিশের সবগুলোই স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে তালাক দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে মাদকসেবী স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে নির্যাতন এবং মাদকের টাকা যোগাতে স্ত্রীর নিকট যৌতুকের দাবির ঘটনাই বেশি দায়ি। এঘটনা এখন গ্রামের প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখন তাদের উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকমত সময় দিতে না পারলেও এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর ভাঙা সংসার জোড়া দেয়ার কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
এর মধ্যে প্রতিটি যুবকের জন্য কর্মের কোন প্রতিষ্ঠান থাকত তবে এমন হতনা বলে সমাজপতিদের মন্তব্য। পারিবারিক আদালতে সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে অনেক নারীই তার কলহপূর্ণ সংসারে নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বিবাহ বিচ্ছেদের মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবার অনেকেই তার সংসার ফিরে পেয়েছেন তবে আংশিক।
এমন ঘটনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের শিশু সন্তানদের উপর। এসব শিশুরা এখন অনেকটাই“বিচ্ছেদ” পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধিও হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। এসব শিশুরা এক তাদের পিতা-মাতাদের সঠিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমান সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীদের জীবনমান উন্নয়নে আমুল পরিবর্তনে ঘটেছে। নারীরা এখন বাহিরের কাজ করছেন। প্রায় পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছে চুল কোম্পানির কাজ।
ঘর ও বাহির দুটোই সামলিয়ে তারা এখন নিজেকে স্বাবলম্বী করতে অনেক সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। ফলে স্বামীর কর্তৃত্বের বলয় থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে। এসব কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজের বিজ্ঞ মহল। এবিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোশাররত জাহান বলেন, বিরামপুর উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে,এটি উদ্বেগজনক ঘটনা। এ সমস্যা সমাধারনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এছাড়া অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীদেরকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে তাদের সংসার টিকিয়ে রাখতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার জানায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হচ্ছে- মাদক বিস্তার। তাহা ছেয়ে গেছে সারা উপজেলায়। তবে,এসব এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স অবস্থান ঘোষণা করেছে। সমাজে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
নারীদের স্বাবলম্বীতার কারণে যাতে এসব পরিবারে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বিবাহ বিচ্ছেদ না ঘটে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বেকার পুরুষদেরকেও প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকারের পক্ষে উন্নয়ন জনগণের সৃষ্টি করতে যাহা প্রয়োজন তাহা বদ্ধপরিকর ভূমিকা পালনে নিয়োজিত আছেন বলে জানান। স্হানীয় বিজ্ঞ মহলের মন্তব্য অতি সত্তর সরকার প্রত্যেক উপজেলা ভিত্তিক কর্মের পথ সূগম করনের প্রতিষ্ঠান স্হাপন করার জের দাবি জানান।।








