তানোর প্রতিনিধি ঃ রাজশাহীর তানোর পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের মালিকানাধীন বরেন্দ্র ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অবৈধ (নিজস্ব) চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এলাকাবাসির পক্ষে সারোয়ার হোসেন বাদি হয়ে তথ্যমন্ত্রণালয়, দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও আঞ্চলিক কর কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তানোরে ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের বাণিজ্য করছে। সরকারি সম্প্রচার নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘বরেন্দ্র ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্ক’ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ (নিজস্ব) চ্যানেল সম্প্রচার এবং এসব চ্যানেলে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পণ্যর বিজ্ঞাপন প্র্রচার করে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ হাতিয়ে নিচ্ছে। তানোরে তাদের এসব নিজস্ব চ্যানেল সম্প্রচারের কারণে দুটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। দুটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও এসব কর্মকর্তা ও ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্ক মালিকদের পকেট ভারি হচ্ছে। যে কারণে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ফ্রিকুয়েন্সি ডিক্লারেশন এক্ট ও কেবলটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রচার আইন-২০০৯ অনুযায়ী, ডিস প্রযুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক (নিজস্ব) টিভি চ্যানেল বা ডিস চ্যানেল প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তানোরে বরেন্দ্র ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের এসব বেআইনি চ্যানেলে অনুষ্ঠানমালা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এছাড়াও বিদ্যুতের পোল (খুঁটি) ও এ্যাম ব্যবহারের জন্য এ্যাম প্রতি ১০ টাকা করে ভাড়া এবং গ্রাহকদের নিকট থেকে আদায়কৃত টাকার ওপর শতকরা পনের ভাগ ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিšত্ত এসব নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে তারা অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাণিজ্য করে চলেছেন। পরিস্থিতি এমন যে বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোরে ‘বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক-এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। বিভিন্ন এলাকার এসব গ্রাহকদের মধ্যে লাইন সরবরাহ করতে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি ও প্রায় তিনশ’ এ্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কিšত্ত এজন্য সরকারি কোষাগারে কোন অর্থ জমা দেয়া হচ্ছে না। গ্রাহক প্রতি জামানত বাবদ পাঁচশ টাকা করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ফি দেড়শ’ টাকা করে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। সেই হিসেব অনুযায়ী গ্রাহকের জামানতের প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে শতকরা পনের শতাংশ হারে ভ্যাট প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং প্রতি মাসের মাসিক ফি হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রাহকের কাছে থেকে আদায়কৃত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার বিপরীতে শতকরা পনের শতাংশ হারে ভ্যাট প্রায় ৯০ হাজার টাকা প্রতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিšত্ত এখানে সরকারি এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে দায়িত্বশীল একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী আয়কর বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে সরকারি ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর পৌর মেয়র, যুবদলের সভাপতি ও বরেন্দ্র ক্যাবলটিভি নেটওয়ার্কের স্বত্ত্বাধিকারী মিজানুর রহমান (মিজান) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সারা দেশে যেভাবে কেবল টিভি নেটওয়ার্ক ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তিনিও তাদের মতোই সেভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। #








