এম এ হোসেন, রংপুর: রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, এক আস্থার নাম। সেইসাথে হাজীরহাট থানাও জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশকে করতে হয় বহুমুখী কাজ। দিন দিন অপরাধীর সংখ্যা, অপরাধের মাত্রা ও প্রকৃতির কারণে কৌশলগত দিক বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মোকাবেলা করতে হচ্ছে পুলিশকে। সাধারণত পুলিশেরা পেট্রোলিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, তদন্ত, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের কাছে সোপর্দ করা; ভিক্টিমকে সাপোর্ট দেওয়া; বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং, রিফর্ম প্রোগ্রাম, জঙ্গী দমনের জন্য বিশেষ টিমের দায়িত্বপালন, রাষ্ট্রের বিশেষ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রদান, পুলিশিং ও অন্যান্য বিষয়ে গবেষণা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিশেষ পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালন অথবা কোন সফল অপারেশনের পর সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করে থাকে। এতোকিছুর পরেও পুলিশ নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের সীমা নেই। পুলিশ খারাপ। পুলিশ অপরাধ দমন ও অপরাধীদের ধরতে পারে না। পুলিশ ঘুষ খায়, চাঁদাবাজি করে। ছিনতাইও করে। নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে। মামলা নিতে চায় না। মামলা নিলেও তদন্ত ঠিকমত করে না। এমনি অসংখ্য অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। তবুও তারা নিরলসভাবে দিয়ে যাচ্ছে সেবা। এসব অভিযোগ থেকে অনেকটাই মুক্ত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজীরহাট থানা। এ থানায় সেবা গ্রহণ করতে আসা প্রতিটি মানুষকেই কাঙ্খিত সেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা সেবাগ্রহীতাকে তাদের নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে সেবা প্রদান করে থাকেন। এছাড়াও পরিসংখ্যান বলছে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজীরহাট থানার অর্জন ও সফলতাও অনেক। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু হাজীরহাট থানা নয় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিটি থানাই যেনও সঠিক সেবা পাওয়ার সঠিক স্থান। পুলিশ আর জনগণের মাঝে দুরত্ব কতটা তা এসব থানায় গেলে বোঝা যায়। এভাবে সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে হয়তোবা একদিন পুলিশ সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু বলে সবার মুখে মুখে শোনা যাবে। স্থানীয় মানুষেরা জানান, হাজীরহাট থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্য বন্ধুর মতো আচরণ করেন। নানা সময়ে বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে আমাদের সাথে সচেতনতামূলক সভা করেন। আমাদেরকে পরামর্শ দেন। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি অনেকটাই সমানে সমান। মুঠোফোনে কথা হয় হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব বসুনিয়ার সাথে। তাকে জানানো হয় হাজীরহাট থানা এলাকার নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যদি পুলিশের সুসম্পর্ক না থাকে, তাহলে পুলিশ তার সেবাটা দেবে কোথায়? মানুষ যদি পুলিশের কাছে আসতেই না পারে এবং বন্ধুর সম্পর্কই যদি না থাকে, তাহলে পুলিশের পক্ষে কাজ করাই তো সম্ভব নয়। তাই আমি চেষ্টা করি আমার থানায় কোনও সেবাগ্রহীতা যেনও অসন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি না ফেরে। আমাদের কমিশনার স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আর জনগণের সবচেয়ে কাছের বাহিনী হচ্ছে পুলিশ। মানুষের খুশিতে আমিও খুশি। নাগরিকদের কাছে আমার প্রত্যাশা, পূর্বের মতোই পাশে থেকে অপরাধ দমনে জনতা-পুলিশ একসাথে আমরা কাজ করার। হাজীরহাট থানাকে মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত থানা হিসেবে গড়ে তুলবো।








