এম এ হোসেন, রংপুর: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরেও রংপুরে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে মিলছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। কিছু কিছু স্থানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মাদক। যেনও দেখার কেউ নেই। সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এখনও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদকের ছোবলে বিপথগামী হচ্ছেন তরুণ সমাজ। জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাঝেমধ্যে দুই-একজন মাদকসেবী কিংবা খুচরা মাদক ব্যবসায়ীকে ধরলেও গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন পর্দার অন্তরালে। যে কারণে মাদকের আগ্রাসন থামছে না। বরং নিত্যনতুন পন্থায় চলছে মাদকের কেনা-বেচা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের খামারপাড়া, কলেজপাড়া, আলমনগর, মডার্ন মোড়, পার্ক মোড়, সাতমাথা, টার্মিনাল, মেডিকেল মোড়, রেলস্টেশন, হাজীরহাট, দর্শনা মোড়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান মাদক কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্র। এছাড়াও মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে, পরিত্যক্ত ভবন-স্থানে, খেলার মাঠে, নদীর ধারে, দোকানে, ব্রিজে এমনকি বাজারের আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে মাদক। এসব স্থানে মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতার আনাগোনা শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে এবং জমে গভীর রাত পর্যন্ত। আর এসব মাদক বিক্রি করছে তরুণ, নারী, যুবক ও বয়স্করাও। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর ও যুবকদের স্থান। কয়েকটি গবেষণার প্রতিবেদন বলছে, যুব সমাজের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদার মাদকদ্রব্য এর তালিকায় রয়েছে ইয়াবা। যা এখন মিলছেও সহজে। সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, মাদক নির্মুল করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে। পুলিশের দাবি, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সবাইকে সচেতন করার চেষ্টাও চালাচ্ছি আমরা। তথ্য বলছে, এখন মুঠোফোনে যোগাযোগে ঘরে বসেও পাওয়া যায় যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদক এখন হোম ডেলিভারিও দেয়া হচ্ছে নানা পন্থায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদকের ব্যবসা হচ্ছে তিনটি ধাপে। একটি দল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মাদক নিয়ে আসে রংপুরে। তারা পৌঁছে দেয় বিভিন্ন এজেন্টদের কাছে আর এজেন্টরা পৌঁছে দেয় খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে।








