এম এ হোসেন, রংপুর: পুরুষ নির্যাতন, নারী নির্যাতনের মতোই দিন দিন বেড়ে চলছে সমাজে। নারী নির্যাতনের খবর গণমাধ্যমে শিরোনামে আসলেও আড়ালে থেকে যায় পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা। সারাদেশের মতো রংপুরেও দিন দিন বাড়ছে নির্যাতনের শিকার পুরুষের সংখ্যা। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, পুরুষরা নির্যাতিত হচ্ছে নানা কারণে। এর মধ্যে রয়েছে নিজের স্ত্রী দ্বারা, পরিবার দ্বারা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি দ্বারাসহ নানা কারণে নির্যাতনের ঘটনা। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একজন পুরুষ নারী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন এই ঘটনা কোন পুরুষ নিজে মুখে বলতে লজ্জাবোধ করেন আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারণে। সেজন্য পুরুষেরা ভাবেন নারী দ্বারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন এটি প্রকাশ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। শুধুমাত্র এই কারনে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়। নারীর সুরক্ষার জন্য দেশে একাধিক আইন রয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন- ২০০০, এসিড নিরোধ আইন- ২০০২, পারিবারিক সহিংসতা ও দমন আইন- ২০১০, যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু আইনগুলো নারীর সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে এ আইনগুলোকে কতিপয় নারী, পুরুষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সামান্য কিছুতেই স্বার্থান্বেষী নারী স্বামীদের নাজেহাল করতে এসব আইনের অপপ্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে দেশে “পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ” আইন এখনো সৃষ্টি হয়নি। নেই পুরুষ নির্যাতনবিরোধী ট্রাইব্যুনালও। সরকারের উচিত এদিকে একটু নজর দেওয়া। এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর সাধারণ শাখা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২২ মে পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের সবগুলো ওয়ার্ডের বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ৫ মাসে ৩০০ বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। এই সময়ের মধ্যে ১৮০ জন নারী বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। প্রতিবেদন তৈরি করার সময় আমরা কথা বলেছিলাম কয়েকজন বিবাহিত পুরুষের সাথে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব পুরুষের বেশিরভাগ পুরুষই নানাভাবে নির্যাতনের শিকার নিজের স্ত্রীর দ্বারা। তারা বলেন, বেশি কিছু বলতে গেলেই মামলাসহ নানা ঝামেলা করার কথা বলে তাদের স্ত্রীরা। কেউ কেউ সন্তান ও সমাজের কথা চিন্তা করে নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন এমন অনেক ঘটনাই। আইনজীবীরা বলছেন, যৌতুক আইনের অধিকাংশই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। পারিবারিক যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ঝগড়া হলে সেটি থানা পুলিশে গড়ালে পরিণত হয় যৌতুক মামলায়। কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে অথবা স্ত্রীকে তালাক দিলে অথবা উচ্ছৃঙ্খল স্ত্রীকে শাসন করলে অথবা স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দিলে সেই স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন থানায় বা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০-এর ১১(খ) অথবা যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০-এর ৪ ধারায় একটি মামলা করেন। একজন পুরুষের জীবন অতিষ্ট করার জন্য এই একটি মামলাই যথেষ্ট। আমাদের মতো আইনজীবীদেরও উচিত মামলা গ্রহণের সময় ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা ঘটনা সামনে আনা।
Attachments area








