এম এ হোসেন, রংপুর: চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে-এ স্লোগান নিয়ে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ যুদ্ধের পাশাপাশি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনও শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। কিন্তু এতো কিছুর পরেও রংপুরে কমছে না মাদকের বিস্তার, ব্যবহার ও মাদক ব্যবসা। রংপুর জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্পটে এখনও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। এসব স্পটগুলো বেশিরভাগই জেলা ও সিটি কর্পোরেশনে প্রবেশদ্বারের আশেপাশে। যেসব স্থান দিয়ে খুব সহজেই নানা কৌশলে ঢুকে পড়ছে মাদক। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মাদক এক আতঙ্কের নাম। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কারণে দিন দিন মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ক্রমেই মাদকদ্রব্যের চাহিদাও বাড়ছে। সামান্য কারণেই মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এবং মাদকদ্রব্যকে নিজের সঙ্গী বানিয়ে নিচ্ছে। আধুনিকতার চরম উৎকর্ষে অতি সহজে সুন্দর প্যাকিং, ট্যাবলেট বা বোতলে মাদকদ্রব্যের বিভিন্ন উপকরণ হাতের নাগালেই পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মতে, এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে সামষ্টিকভাবে মাদককে ‘না’ বলতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে জয়ী হতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। মাদকাসক্তি অপসংস্কৃতির প্রজনন কেন্দ্র, অপরাধের উৎস। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর হাজীরহাট থানা ও পরশুরাম থানা এলাকার বেশ কিছু স্থানে এখনো মিলছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। বিশেষ করে এসব থানার আওতাধীন বিভিন্ন ব্রিজ-কালভার্টে, খেলার মাঠে, পরিত্যক্ত ভবনে, নদীর পাড়ে, গ্রামের গভীরে এমনকি এবং হাট-বাজারের আশেপাশে কিছু ব্যক্তি কৌশলে বিক্রি করছে মাদক। যার ক্রেতা উঠতি বয়সী কিশোর, যুবক ও মধ্যবয়সী ব্যক্তিরা। এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদেরও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বুড়িরহাট, পাণ্ডার দিঘী, কেল্লাবন্দ কাচারী, হাজীরহাট, সুকানচৌকি, মনোহর, মন্থনা, বখতিয়ারপুর, উত্তমসহ বেশ কিছু স্থানে বাইরে থেকে উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকেরা এসে প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করে। এদের সাথে যুক্ত হয় স্থানীয় বখাটে ছেলেরা। আগের চেয়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা কমেছে বলে মনে হলেও ভিতরে ভিতরে চলমান রয়েছে এ ব্যবসা। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরো নজরদারি বাড়ানো উচিত। গোপন সূত্রে জানা যায়, অনেক স্থানে মাত্র ১০০ টাকায় গাঁজা, ৩০০ টাকায় ইয়াবা আর ৫০০ টাকায় মিলছে ফেনসিডিল। সচেতন অভিভাবকরা বলেন, পুলিশ কঠোর অবস্থান দেখালেও কারবার বন্ধ হচ্ছে না মাদকের। মাদকে হাবুডুবু খাচ্ছে কিছু কিছু পরিবারের সন্তান। আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। সন্তানের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকার, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ-পরিবার গড়ে তুলতে সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি যাতে মাদক-ব্যবসা ও এর পাচার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।







