রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: এতো সাহস পায় কোথায় তারা। এতো কিছুর পরও রংপুর মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতালে রোগিদের জিম্মি করে বকশিসের নামে ছয়-সাত গুন বেশি রোগি ভর্তি ফি
আদায় এবং ট্রলিতে রোগিদের বহন করতো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সিন্ডিকেট আর অসাদু
চক্র। এমনকি লাশ নামাতেও জোর করে টাকা আদায়সহ নানান অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের
বিরুদ্ধে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালটির ১৬ কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে দেশের
বিভিন্ন হাসপাতালে বদলির আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই আদেশ স্থগিতের জন্য
সিন্ডিকেট চক্রটি বিভিন্নভাবে তদবির অব্যাহত রেখেছে। একই সাথে হাসপাতালের জরুরি
বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ট্রলি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। জানা যায়,
১৬ কর্মচারীকে বদলির আদেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল চত্ত্বরে মোতায়েন করা
হয়েছে পুলিশ। সিন্ডিকেটের মূল হোতারা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা। তাদের কয়েকজনের
বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে। এদের কয়েকজন অনেক আগে থেকে সাসপেনশনেও রয়েছে।
সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, হাসপাতালে নৈরাজ্যসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না
নেওয়া হলে হাসপাতালের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। ১৬ কর্মচারী এক যোগে বদলির
আদেশ হওয়ার পরেও দালালের দৌরাত্ব কমেনি। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের কথিত নেতার
ক্যাডাররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগি ভর্তি বাবদ ২৫ টাকার স্থলে থেকে দেড়শ টাকা
পর্যন্ত আদায় করেছে। ট্রলি বাণিজ্য অব্যাহত ছিল। জরুরি বিভাগে নীলফামারী থেকে আসা
অসুস্থ মমতাজ মিয়াকে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর পর পরেই ট্রলি বহনকারী কর্মচারী দু’জন
ব্যক্তি তাকে ট্রলিতে তুলে দেড়শ টাকা দাবি করেন। রোগির স্বজনরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায়
তারা আধাঘণ্টা ধরে রোগিকে ট্রলিতেই শুইয়ে রাখে। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থলে গেলে ট্রলি
ওয়ালারা সটকে পড়ে। পরে স্বজনরাই তাকে বহন করে মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। কুড়িগ্রাম
থেকে আসা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা ১০ বছরের শিশু ময়না খাতুনের মা বলেন,
ডাক্তার তার মেয়ের জন্য কয়েক ধরনের রক্ত পরীক্ষা করতে বলেছে। কিন্তু হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগে
গিয়ে তিনি দেখতে পান সেটি পুরোপুরি বন্ধ। তাকে বাইরে প্যাথলজি ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা
করে রিপোর্ট আনতে বলা হয়। এ সময় হাসপাতালের আশ-পাশে থাকা বিভিন্ন প্যাথলজির লোকজন
ঘোরাঘুরি করছে। এর মধ্যে সেবা প্যাথলজির এক কর্মী রক্ত পরীক্ষা করে রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার
কথা বলে রক্ত নিয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন নার্স বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে
প্যাথলজিকাল পরীক্ষা বন্ধ। হাসপাতালের বাইরে থাকা পপুলার, আপডেট, ল্যাবএইডসহ বড় বড়
ডায়গনস্টিক সেন্টারের কর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে এসে রক্তের নমুনাসহ অন্যান্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে
যায়। এ ছাড়াও হাসপাতালে কে দালাল আর কে কর্মচারী তা বোঝা মুসকিল। দালালরা রোগিদের
বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিকে রোগি নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সিন্ডিকেট চক্রের
হাতে নাজেহাল হতে বলেও জানান তারা। উত্তরাঞ্চলের মানষের আস্থার হাসপাতালে এভাবেইচিকিৎসার
নামে চলছে প্রহসন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা, শরীফুল হাসান বলেন,
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬ জনকে এক যোগে বদলির আদেশ দিয়েছেন। তাদের ৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছে
বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য। সাত দিন পার হলেই আমরা রিলিজ অর্ডার ধরিয়ে দেবো।
বদলির আদেশ বাতিল হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে
তিনি বলেন, এক মাস হলো পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছি। এখানে সকল ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও
দুর্নীতি। চেইন অব কমান্ড নেই। সময় দেন, সব পরিষ্কার করে ফেলবো।








