রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান
প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ আহমেদের নগদ টাকা ৩০ হাজার ও আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য
বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলুর নগদ টাকা ১৮
কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ৫২৪। দু’জনেরমধ্যে ইলিয়াছ আহমেদের বার্ষিক আয় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার
টাকা আর মোছাদ্দেক হোসেনের আয় ২৪ লক্ষ ২৯ হাজার ১০১ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় আওয়ামী
লীগের প্রার্থী এলএলবি আর বিদ্রোহী প্রার্থী এসএসসি পাস। নির্বাচন কমিশনের দাখিল করা
হলফনামায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের
সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা ছাত্র
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার আগে তিনি রংপুর সদর ছাত্রলীগের সাধারণ
স¤পাদক, রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ স¯পাদক, রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি
ছিলেন। ইলিয়াছ আহমেদ ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ডিসি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাওয়ের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। স্বাধীনতার পর যুবলীগের
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, জেলা সভাপতি, সাধারণ স¤পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য এবং সহ-
যুব স¤পাদক ছিলেন। প্রবীণ আওয়ামী লীগের এ নেতা ২০ বছর রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
স¤পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন
বাবলু রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ নির্বাচনকে ঘিরে দল
থেকে বহিষ্কার হয়েছে তিনি। মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু ১২ বছর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের
জেলার কমান্ডার ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রংপুর চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ছিলেন। নির্বাচনী হলফনামায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী
ইলিয়াছ আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি এলএলবি পাস করেছেন। পেশায় আইনজীবী। কৃষি খাতে তার
আয় দেখানো হয়েছে ১ লক্ষ টাকা, পেশা থেকে আয় ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ লক্ষ
৪০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে
পোস্টাল সেভিংস রয়েছে ৫ লক্ষ টাকা, স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে ৬ ভরি, নিজের নামে ১০ বিঘা ও
স্ত্রীর নামে ২০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। এ ছাড়া অকৃষি জমি ৩০ শতক, গ্রামে দোতলা বাড়ি
এবং স্ত্রীর নামে টিনশেড বাড়ি রয়েছে। তার মুক্তিযোদ্ধা ঋণ রয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। হলফনামা
অনুয়ায়ী মোছাদ্দেক হোসেন বাবলুর আতœীয় স্বজনদের থেকে ধার অথবা কর্জ নেই। পেশায়
ব্যবসায়ী। কৃষিখাতে তার রয়েছে ২৭ হাজার ২৯০ টাকার স¤পত্তি। বাড়ি, এপার্টমেন্ট,
দোকানসহ অন্য ভাড়া বাবদ আয় রয়েছে ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৬০ টাকা। ব্যবসা বাবদ আয় রয়েছে ১৪ লক্ষ
১৪ হাজার ৫১ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, একচেঞ্জ ইত্যাদিতে রয়েছে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা।
বাস, ট্রাক, ছোট গাড়ি ইত্যদি বাবদ দেখানো হয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকা। স্বর্ণ অন্য মূল্যবান পাথর
রয়েছে ৫৫ হাজার টাকার। ইলেক্টনিক্স সামগ্রী রয়েছে ১ লক্ষ টাকার। আসবাবপত্র ১৫ হাজার টাকা।
কৃষি জমি রয়েছে ৫৮ লক্ষ ৩ হাজার ২৫০ টাকার। এ ছাড়া অকৃষি জমি রয়েছে ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৪৮
হাজার ৬৭০ টাকার। দালান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৯৬
টাকার। বাড়ি এপার্টমেন্ট ১ কোটি ৫৫ লক্ষ, ৪০ হাজার ৪৫০ টাকার। অন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৫৬
টাকা। তার জামানত বিহীন ঋণ ৫০ লক্ষ এবং ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১৯ কোটি ২৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৯৩
টাকা। উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ
আনারস প্রতীক নিয়ে লড়বেন এবং আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী
মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়বেন। জেলা পরিষদের ৮টি সাধারণ
ওয়ার্ডে সদস্য পদে ২৯ জন এবং ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৭ জন নারী সদস্য প্রার্থী বিভিন্ন
প্রতীকে লড়বেন। রংপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০৯৫ জন।








