গোপাল চন্দ্র রায় -ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ শরৎকাল মানেই জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আগামী শনিবার হতে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দিতে মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। বিরামহীনভাবে কাজ করছেন তারা। এখন পর্যন্ত কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে মাটির প্রলেপ দেয়াসহ অনেক মন্ডপে রংতুলির কাজও শেষ হয়েছে। আবার অনেক মন্ডপে রংতুলির শেষ আচঁড় দিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
শিল্পীরা আপন মনে মনের মাধুরী মিশিয়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, মহিশাসূরসহ সকল মূর্তিকে রংতুলির মাধ্যমে স্ব স্ব মহিমায় প্রষ্ফুটিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
ডোমার উপজেলায় এবারে ১০২টি মন্ডপে দুর্গা পুজা উৎযাপন করা হবে। এরমধ্যে ডোমার পৌরসভায় ৯টি, ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নে ৭টি, কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে ৯টি, গোমনাতী ইউনিয়নে ৬টি, জোড়াবাড়ী ইউনিয়নে ৯টি, বামুনিয়া ইউনিয়নে ১০টি, পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নে ৯টি, বোড়াগাড়ী ইউনিয়নে ১৩টি, ডোমার সদর ইউনিয়নে ৯টি, সোনারায় ইউনিয়নে ১২টি ও হরিণচড়া ইউনিয়নে ৯টি মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারেই প্রথম দুর্গা মন্ডপ গুলোতে আইন শৃংখলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিটি পুজা মন্ডপকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডোমার সদর ইউনিয়নের ছোটরাউতা আন্ধারুর মোড় পুজা মন্ডপের প্রতিমা তৈরির কারিগর জলঢাকা উপজেলার কালিগঞ্জ শালন গ্রামের বাসিন্দা রতন ভাস্কর জানান, আমার দুজন সহযোগী মৃৎশিল্পী পবিত্র ভাস্কর ও তপন ভাস্করসহ ৩জনের একটি টিম প্রতিমা তৈরী এবং রং দুটোই করছি। প্রতিমা গুলো আমরা চুক্তিভিত্তিক তৈরির কাজ করি। এবারে ৫টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছি। প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির জন্য প্রকার ভেদে ২০হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তি হয়। গত দুমাস ধরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছি। আজই শেষ হবে।
ডোমার উপজেলা ব্রাহ্মণ পুরোহিত ঐক্য পরিষদের সভাপতি মানিক চক্রবর্তী জানান, পঞ্জিকা মতে বাংলা সনের আগামীকাল শনিবার ১৪ আশ্বিন ষষ্ঠী তিথির মাধ্যমে দুর্গা পুজা শুরু হয়ে আগামী ১৮ আশ্বিন বিজয়া দশমীর মাধ্যমে বিসর্জন হবে। এবারে দেবী দুর্গা মর্তে আগমন করবেন গজে এবং গমন করবেন নৌকায়।
ডোমার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাম কৃষ্ণ বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক অমরজিৎ সিংহ জানান, এবারে ডোমার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে গত বছরের তুলনায় দু’টি পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে।







