এম এ হোসেন, রংপুর: রংপুর সিটি কর্পোরেশনের হাজীরহাট থানা এলাকা যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, প্রকাশ্যে বসছে জুয়া খেলা। মাদক ও জুয়ার সাথে সংশ্লিষ্টরা পুলিশের নাকের ঢগায় আঙুল দিয়ে দেদার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কিছু নামধারী রাজনৈতিক কর্মী, নামধারী পুলিশের সোর্সসহ স্থানীয়ভাবে ক্ষমতা দেখানো কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় চলছে এসব কার্যক্রম। তাদের মতে, হাজীরহাট থানা এলাকায় অবস্থিত প্রায় সব হাট-বাজারে, পরিত্যক্ত ভবনে, ব্রিজের ওপরে, নদীর ধারে, বাঁশ বাগানে, এমনকি গ্রামের ভিতরে দোকানেও সন্ধ্যার পর থেকেই জমে উঠে জুয়া খেলা ও মাদক সেবনের আড্ডা। কিছু কিছু স্থানে দিনেও অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে এসব কার্যক্রম। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক সেবনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদকসেবীদের মধ্যে আলাদা আলাদা গ্রুপ করা থাকে। নির্ধারণ করা থাকে স্থানও। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতে মাদক সেবনের জন্য সবাই হাজির হন তাদের নির্দিষ্ট জায়গায়। জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে,পাগলাপীর থেকে সিটি কর্পোরেশনে প্রবেশদ্বার মোড়, মন্থনা, হাজীরহাট, সুকানচৌকি, গিলাবাড়ি, ডুগডুগিরহাট, কেরানীরহাট, বউ বাজার,, উত্তম জিরো পয়েন্ট এলাকা, ঘাঘট নদীর বিশেষ কিছু স্থানসহ হাজীরহাট এলাকার আনাচে-কানাচে চলে মাদক সেবন ও জুয়ার আড্ডা। স্থানীয়রা বলছে, প্রশাসন কঠোর না হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা এখানে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আগে এতো মাদকের ছড়াছড়ি ছিলো না, গত ১ বছর থেকে এখানে যেখানে-সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মাদকদ্রব্যের অনেক বোতল, অংশ, দেখা যাচ্ছে মাদকসেবিদের। সেইসাথে কিছু কিছু স্থানে প্রকাশ্যেই চলছে জুয়া খেলা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকের মরণ ছোবলে। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যুবক, ব্যবসায়ীর পাশাপাশি নারীরাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অনেকেই জড়িত। মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়া খেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও রয়েছে সুসম্পর্ক। পুলিশ বলছে, মাদক, জুয়া জিরো টলারেন্সের জন্য পুলিশ কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।







