বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অপর একজন চাকরিজীবী নারীর সাথে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তাকে ‘তিরস্কার’ সুচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার নাম মো: সারোয়ার সালাম (পরিচিতি নং-১৭৭৮৪)। তিনি প্রাক্তন সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগে কর্মরত।
গত ২৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খল-২ শাখা থেকে এবিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সারোয়ার সালাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হিসাবে কর্মকালে চাকরিসূত্রে তিনি এবং নাসরিন চৌধুরী (পরিচিতি নং-১৭৯০২), সহকারী কমিশনার (ভূমি), কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার পরম্পর সহকর্মী এবং উভয়ই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও একে অপরের সাথে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, স্বীয় স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করার অনুমতি প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করা সংক্রান্ত ইত্যাদি অভিযোগ পাওয়া যায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামতসহ মাঠ প্রশাসন-১ শাখার ইউ.ও. নোটের পরিপ্রেক্ষিতে শৃঙ্খলা-২ শাখার স্মারকমূলে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক কৈফিয়ত তলব করা হয় এবং একই সাথে তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তা জানতে চাওয়া হয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিত জবাব দাখিলপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আবেদন করলে ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয় এবং আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য বেগম শেলিনা খানম (১৫৩৯৪), উপসচিব (সিআর-৩ শাখা), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-কে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী “অসদাচরণ” এর অভিযোগসমূহের মধ্যে উভয়পক্ষের লিপিবন্ধকৃত সাক্ষ্য, জবানবন্দি, জেরা ও দাখিলকৃত প্রমাণসমূহ বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফেনীতে কর্মরত থাকাকালীন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অপর একজন চাকরিজীবী নারীর সাথে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অপরাপর অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের মধ্যে ১ টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মো: সারোয়ার সালামকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে একই বিধিমালার ৪(২) (ক) বিধি অনুযায়ী ‘তিরস্কার’ সুচক লঘুদণ্ড প্রদান করা হলো।







