এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি অগাধ আগ্রহ নিমু
সুলতানা নিপুনের। বিয়ের পরও সেই আগ্রহ একটুও কমেনি।
সেটাই আবার প্রমাণ করলো সে। ৮ দিনের কন্যা সন্তানকে নিয়ে
পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে যায় নিপুন। গত ৬ নভেম্বর শুরু হওয়া আলিম
পরীক্ষায় মাদবারহাট ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে
নিপুন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার কন্যা সন্তানের নাম মানহা
চৌধুরী। গত ৩০ অক্টোবর নিপুন মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
যার ফলে ৮ দিনের শিশুকে সাথে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে
তাকে। নিপুন মিরসরাই উপজেলার ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের ৭
নং ওয়ার্ডের মধ্যম করুয়া এলাকার মুরাদ খান চৌধুরী বাড়ির মঞ্জু
চৌধুরীর স্ত্রী।
নিমু সুলতানা নিপুন জানান, একমাত্র কন্যা সন্তানকে সাথে
নিয়ে ইতিমধ্যে মিরসরাই লতিফিয়া কামিল মাদরাসা পরীক্ষা
কেন্দ্রে রবিবার কোরআন মাজিদ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং মঙ্গলবার
দ্বিতীয় দিনের মতো আরবী প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। নিপুন ৮
দিনের শিশু মানহাকে কোলে নিয়ে এক হাতে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও
রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের একটি ফাইল নিয়ে হাইতকান্দির শ^শুর বাড়ি
থেকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেন। তবে
এবার পরীক্ষা না দিলে শিক্ষাজীবন থেকে ১ বছর পিছিয়ে যাবেন
সেই বিবেচনা করে নানা কষ্ট স্বীকার করে হলেও শিশু সন্তানকে
কোলে নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেন তিনি।
নিপুনের স্বামী মঞ্জু চৌধুরী জানান, গত ৩০ অক্টোবর মিরসরাই
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে আমার স্ত্রী নিপুন
নরমাল ডেলিভারীতে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। নিপুনের
পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকায় তাই ৮ দিনের শিশুকে কোলে
নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা হয়েছে। বাচ্চা যখন কান্না করে তখন
মা এসে দুধ পান করিয়ে চলে যায়। এতে করে পরীক্ষায় সামান্য
ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমাদের একটি রুম
দিয়েছে। সেখানে তার খালা তিশার কোলে থাকে আমার মেয়ে
মানহা।
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান
বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিপুন তার সহপাঠীদের সাথে বসে
পরীক্ষা দিচ্ছেন। আলাদা রুমে দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে তার
শিশুটিকে রাখার জন্য একটি রুম দেওয়া হয়েছে। যখন নিপুন
পরীক্ষায় অংশ নেন তখন শিশুটি খালা এবং বাবার কোলে থাকে।






