ফ্রান্সের জয় মানেই যেন এমবাপ্পের পায়ের জাদু। পোল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। এমবাপ্পের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই পোলিশদের ৩-১ গোলে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স উঠল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
ম্যাচ জুড়ে আলো ছড়ালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অলিভিয়ে জিরুদের গোলে অবদান রাখার পর তিনি নিজে করলেন চমৎকার দুটি গোল। দুজনেই গড়লেন রেকর্ড।
প্রথমার্ধে জিরুদ দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করেন এমবাপ্পে। পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ থেকে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে পোল্যান্ডের হারের ব্যবধান কমানো গোলটি করেন রবের্ত লেভানদোফস্কি। নিয়মিতদের বেশিরভাগকে বিশ্রাম দিয়ে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারা ম্যাচ থেকে একাদশে ৯টি পরিবর্তন আনেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশম।
শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে থাকা ফ্রান্স চতুর্থ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায়। অঁতোয়ান গ্রিজমানের কর্নারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের হেড লক্ষ্যে থাকেনি। ত্রয়োদশ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল নিচু শটে চেষ্টা করেন অহেলিয়া চুয়ামেনি, ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি। চার মিনিট পর উসমান দেম্বেলের শট সহজেই আটকে দেন তিনি।
১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠা পোল্যান্ড ঘর সামলাতেই ব্যস্ত থাকে বেশি। বল নিয়ে ফ্রান্সের বক্সেই যেতে পারছিল না তারা। ২১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে রবের্ত লেভানদোভস্কির বাঁ পায়ের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।
২৯তম মিনিটে বক্সে ঢুকে ডান দিক থেকে দেম্বেল পাস দেন দূরের পোস্টে, ছুটে গিয়ে স্লাইডে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে পারেননি জিরুদ। যদিও অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। ৩৬তম মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে কিলিয়ান এমবাপের শট ঠেকিয়ে দেন স্ট্যাসনি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৩৮তম মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল পোল্যান্ড। সতীর্থের কাটব্যাকে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে পিওতর জেলিনস্কির শট পা দিয়ে ফেরান লরিস। ফিরতি বলে জেলিনস্কির আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকান দায়দ উপেমেকানো। এরপর ইয়াকুব কামিনিস্কির শট গোললাইন থেকে বিপদমুক্ত করেন ভারানে।
৪৪তম মিনিটে জিরুদের রেকর্ড গড়া গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এমবাপের পাস ডি-বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন এসি মিলান স্ট্রাইকার। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে থিয়েরি অঁরিকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় বসলেন জিরুদ। তার মোট গোল হলো ৫২টি। এর মধ্যে তিনটি এবারের বিশ্বকাপে।
বিরতির পরও বদলায়নি ম্যাচের ধারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিল পোলিশরা। ৫৬ মিনিটে ডি-বক্সের কাছাকাছি জায়গা নেওয়া এমবাপ্পের দুর্দান্ত এক শট পোলিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৭৪ মিনিটে আবারও দেখা মেলে এমবাপ্পে জাদুর। প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপ্পে। প্রথম গোলটি যে জায়গা থেকে করেছিলেন, সেখান থেকেই যোগ করা সময়ে করেন দ্বিতীয় গোলটি। পার্থক্য কেবল প্রথমটি ছিল কাছের পোস্টে আর পরের ছিল দূরের পোস্টে।
আর এমবাপ্পের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে সান্ত্বনার গোল পান রবার্ট লেভানডফস্কি।








