আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাব যে, গণতন্ত্র প্রচলিত আছে এইরূপ সকল দেশেই পুলিশ ও গণমাধ্যমসমূহের মধ্যে সৌহাদ্যের সম্পর্ক ও সমন্বয় বিদ্যমান রয়েছে। ফলে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সেখানের জনগণেরও সু-সম্পর্ক বিরাজমান। ফলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, আইনের প্রয়োগ এবং জনস্বার্থে যে কোন কার্যক্রম পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা পালন করেন। তাই সেখানে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিরাপদ থাকে। পুলিশ ও গণমাধ্যমসমূহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে তাদের মধ্যে আরো অধিক সমন্বয় থাকা আবশ্যক। কারণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে নিম্নবর্ণিত সুবিধাবলী লাভ করা সম্ভব।
যথা :-
* রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের অধিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
* জনগণের প্রয়োজনে পুলিশ দ্রুত তাদের সেবা প্রদান করতে পারবেন।
* দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা সুদৃঢ় হবে।
* মানবাধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা সহজতর হবে।
* পুলিশবাহিনী গণমুখী তথা জনগণের বন্ধু হওয়ার সুযোগ পাবে।
* নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করা সহজ হবে।
* দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন অর্থাৎ সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
মানবাধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে পুলিশ ও গণমাধ্যমসমূহের কার্যক্রমে সমন্বয় খুবই প্রয়োজন। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান দুটিকে আরো কতিপয় সাধারণ শর্ত পালন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। যথা:-
* পুলিশ ও গণমাধ্যমসমূহকে সর্বদা দলমতের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।
* সর্বদা নিরপেক্ষ ও নির্ভীক থাকতে হবে।
* সর্বক্ষেত্রে সমঅধিকার, আইনগত অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
* পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কার্যকরভাবে অপরাধ রোধ, উদঘাটন, দমন, সামাজিক শান্তি ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
* পুলিশ বাহিনীর সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীদের দক্ষ, কর্মনিষ্ঠ ও আধুনিক করে তোলার জন্যে যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
* কারো অনভিপ্রেত অন্যায় নির্দেশ বা ক্ষুদ্র স্বার্থ চিন্তা তাকে যেন ক্ষমতা অপব্যবহারে লিপ্ত না করে তা নিশ্চত করতে হবে।
* কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
* জনগণের বিশ্বাস কিংবা আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে।
* নিয়মানুবর্তিতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে।
* জনগণের চাহিদা মোতাবেক গণমুখী ভূমিকা পালন করতে হবে।
* জনগণের ডাকে দ্রুত সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
* বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক অনুসন্ধান কিংবা তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির ব্যবহার করতে হবে।
* দুর্নীতি দমনে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
* রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
আমরা জানি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর এই সংবিধান পরিবর্তন করে বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িককরণের মাধ্যমে পাকিস্তানের অগণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো হয়। সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে বিভিন্নভাবে মদদ দেওয়া হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে পঁচাত্তর পরবর্তীতে আওয়ামীলীগসহ গণতান্ত্রিক শক্তি ও অন্যান্য সামাজিক শক্তি বস্তবতা ও বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জোটবদ্ধভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে সাম্য ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট নির্বাচনে জয়লাভ করে। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে দোষীদের বিচার কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অনেক অপরাধীর বিচারের রায় হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড মামলার বিচারের রায় হয়েছে এবং অধিকাংশ অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে। তবে মানবাধিকর উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, গবেষক, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি
৫১, ৫১/এ পুরানা পল্টন (৯ম তলা) ঢাকা-১০০০।






