তবে কি পাথর হয়ে গেলেন নেইমার! এমনিতে যেমন আমুদে, তেমনই আবেগী তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের পর নেইমারের তাই কেঁদে বুক ভাসানোর কথা।
হ্যাঁ, সেটাই হলো। প্রথমে ভাবলেশহীন ভাবে বসে ছিলেন মাঠে। নির্বিকারভাবে। একটু আগে যা ঘটে গেছে তা যেন বিশ্বাস করতে চাইছে না তার মন। হয়তো ঘোরের মধ্যে ছিলেন। সেই ঘোর কাটতেই তার চোখের জলে ভিজল আল রাইয়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম।
এসেছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। অথচ সেই স্বপ্ন থেমে গেল কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চেই।
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শুক্রবার টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় তুলে নেয় ক্রোয়েশিয়া। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলকে। কিন্তু পরে পেতকোভিচ সমতা এনে দেন ক্রোয়াটদের।
নেইমারের গোলটি ছিল দেখার মতো। ম্যাচে কিছুতেই যখন ডেডলক ভাঙছিল না, তখনই নিজের জাত চেনান নেইমার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১২৪তম ম্যাচে ৭৭তম গোলটা করেন। বসেন পেলের পাশে।
কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দিনে এই কীর্তি কি আর নেইমারকে আনন্দ দিতে পারে? একটা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তো তার সেই কতদিনের। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকেই দেশের মানুষদের প্রত্যাশার চাপ তার কাঁধে। টানা তিনটি বিশ্বকাপে দলের প্রাণভোমরা ছিলেন তিনিই।
প্রথমবার ২০১৪ বিশ্বকাপে পারেননি। সেবার চোটের কারণে সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলা হয়নি তার। দল জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল থামে কোয়ার্টার ফাইনালে। এবারও একই পরিণত দলটির।
এবারের আসরে সার্বিয়ার বিপক্ষ প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়েছিলেন নেইমার। পরের দুই ম্যাচ তাই খেলতে পারেননি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ফেরেন, গোলও করেন। এদিনও গোল করলেন, কিন্তু দল জিতল না।
তিনটি বিশ্বকাপ খেলেও তাই শিরোপা অনেক দূরের বাতিঘর হয়ে রইল ৩০ বছর বয়সী নেইমারের জন্য। আরেকটি বিশ্বকাপ আসতে আসতে নেইমারের বয়স হবে ৩৪। বিশ্বকাপটা তার ছোঁয়া হবে কি?






