তার গোলেই ৩৬ বছর আগে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বার ফুটবল বিশ্বকাপ জিতেছিলো। তার বিশ্বাস, দীর্ঘ অপেক্ষা ঘুচবে এবার। কাঙ্খিত সাফল্য পাবে আর্জেন্টিনা। এই প্রত্যাশা আর কারোর নয়, যিনি করেছেন তিনি বুরুচাগা।
তিনি বলেন, যোগ্য দল হিসেবেই মেসিরা জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনা জিতুক তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ, আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠুক বুয়েনস এইরেস নগরী, আর্জেন্টাইনদের মুখে হাসি ফুটুক। পাশাপাশি নিজের শেষ বিশ্বকাপে অন্তত শিরোপা উঁচিয়ে ধরুক লিওনেল মেসি।
তবে তিনি এও মনে করেন, কোনো কারণে আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ জিততে নাও পারে, তার পরেও ইতিহাসে মেসির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না, ‘মেসি জিতুক আমি চাই। কিন্তু যদি জিততে না পারে, তাহলে কী হবে! আমরা কি মেসিকে ভুলে যাব? তাকে অভিযুক্ত করে বলব যে, ম্যারাডোনার মতো তুমি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারনি! নাহ্! বিশ্বকাপ জিতলেও মেসি যেমন থাকবে, বিশ্বকাপ না জিতলেও থাকবে। সে ম্যারাডোনার চেয়ে কম বা বেশি হবে না।’

বুরুচাগা আরো বলেন, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ না জিততে পারলেও মেসিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারই বলতে হবে, ‘গত ৭০ বছরে সর্বকালের সেরা ৫ ফুটবলারের মধ্যে মেসি থাকবে। সে বিশ্বকাপ জিতুক কিংবা না জিতুক। এই সত্তর বছরে সর্বকালের সেরাদের পাঁচ ফুটবলার হচ্ছেন-আলফ্রেদো দি স্তেফানো, পেলে, ইয়োহান ক্রুইফ, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি। এই পাঁচ জনের দুজন কখনোই বিশ্বকাপ জেতেননি। তাদের অবস্থানে (বিশ্বকাপ না জিতলেও) কি পরিবর্তন এসেছে? মেসিরও আসবে না।’
তবে মেসির প্রতি শুভ কামনাই আছে বুরুচাগার, ‘আমি আশা করি, মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপ জিতবে। এটা ওর জেতা উচিত। সবাই জানি, এবারই শেষবার মেসি বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছে। অনেক সমালোচনা সে সহ্য করে এই জায়গায় এসেছে।’
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন বুরুচাগা। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও সেটি ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। জার্মানি দুটি গোলই শোধ করে দিয়েছিল। ২-২ অবস্থায় খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রায় মাঝমাঠ থেকে লম্বা এক থ্রু বাড়ান ম্যারাডোনা।
অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে বুরুচাগা বেরিয়ে গিয়ে বল ধরে কিছু দূর দৌড়ে তা ঠেলে দেন জার্মান গোলে। ইতিহাসে স্থায়ী আসন নিয়ে ফেলার জন্য এর চেয়ে আর বেশি কিছু করার দরকার পড়ে না। তবে বুরুচাগা ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে এক অর্থে ছিলেন ম্যারাডোনার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। গোটা বিশ্বকাপেই বুরুচাগা মাঝমাঠ কিংবা আক্রমণে ম্যারাডোনাকে দিয়ে গিয়েছিলেন যোগ্য সঙ্গ।








