বাংলাদেশের এখনো কোন সরাসরি শত্রু নাই। কিন্তু বিভিন্ন মাত্রায় বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করার অথবা বাংলাদেশের ক্ষতি করার সক্ষমতা বিশ্বের সব দেশেরই আছে। এই বিচারে সব দেশই বিভিন্ন মাত্রায় বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক। আমি সবচেয়ে বেশি বিপদজনক ৫ টা দেশের নাম দিচ্ছি।
মন্তব্য নিষ্ক্রিয় করলাম। অনেক পাঠক ভদ্রতা বজায় রেখে মন্তব্যে আলোচনা বা সমালোচনা করতে পারে না। যারা দ্বিমত পোষণ করেন তাদের বক্তব্যে কোন বৈচিত্র্য নাই। বিভিন্ন শব্দ, বাক্য আর গালাগালি ব্যবহার করে বার বার একই কথা বকে যাচ্ছে। তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই দুইটা কথা:
- লক্ষ্য করেন, এটা শত্রুর তালিকা না। যারা উত্তর পড়ার পর “অমুক দেশ ১ নম্বর শত্রু হওয়া উচিৎ” সম্পর্কে প্যান-প্যান করতে আসবেন, তারা বাংলা পড়তে পারেন না।
- গালাগালি করে নিজের বংশপরিচয় আমাকে না দেখিয়ে বরং কোরায় একটা উত্তর লিখে নিজের মতামত জানান। সদবংশজাত হলে নিজের বাবা মায়ের দেওয়া নামে উত্তর লিখবেন। বাকিরা বেনামে লিখতে পারেন।
বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় ক্ষতি করার ক্ষমতা আছে বাংলাদেশের নিজেরই। নিজের ক্ষতি করতে যেমন মতিভ্রম দরকার হয়, বাংলাদেশের মধ্যেই তা প্রচুর আছে।
আমেরিকা। বিশ্বের সকল দেশের জন্যই আমেরিকা অত্যন্ত বিপদজনক। বাংলাদেশ নিজে যদি নিজের ক্ষতি না করে, বিশ্বের বাকি যত দেশ আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করার ক্ষমতা আমেরিকার।
গণচীন। বাংলাদেশের মত অনেক দেশেরই খুব গুরুত্বপূর্ণ নাড়ীর উপর চীন চাপ দিয়ে রেখেছে। অবকাঠামো নির্মান, বিভিন্ন ধরনের বেসামরিক ও সামরিক আমদানী ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে চীনের উপর বাংলাদেশ নির্ভরশীল। সেই সাথে আশেপাশের বিভিন্ন দেশের উপর তার প্রচুর প্রভাব থাকায়, বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক পরিবেশ দূষিত করে তোলার সক্ষমতা চীনের আছে। তাছাড়া চীন সরাসরি শত্রুতা করে বসলে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়ে চীন বিরোধী দলে ভিড়তে হবে। আমেরিকা সেই দলের নেতা। মোটেও আরামদায়ক অবস্থা না।
সৌদিআরব। বাংলাদেশের চলার পথে পচা শামুক। বাংলাদেশ এদেরকে বিভিন্ন অর্থে দেয় অনেক, কিন্তু একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যা পায় তা হল দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ। সেই কাজগুলো করতে যায় যারা, তাদের অভিজ্ঞতা খুব ভাল না। কিন্তু এই মানুষগুলোর জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে সরকারের মাথা ব্যথা হয়। তাছাড়া সৌদির ধর্মের আড়ালে সম্প্রসারণবাদী ও সন্ত্রাসী এজেন্ডাও আছে।
ভারত। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ দেশ, ভাল বা মন্দ যে কোন দিক থেকে। বিপদজনক হলেও, সবচেয়ে বেশি বিপদজনক না। ভারত ও বাংলাদেশ টিকে থাকতে হলে বন্ধুত্ব রক্ষা করেই টিকে থাকতে হবে। আমার ধারনা দুই দেশের মাথা যারা, তারাও ব্যপারটা জানে, তাই প্রকৃত বৈরিতা দেখা যায়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতায় অন্য যে কোন বিপদজনক দেশ এই দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা “ট্রিগার” করতে পারে।
এগুলো ছাড়াও বিপদজনক দেশ আছে। কিন্তু প্রশ্নে ৫টা চেয়েছেন তাই আমি আর দিলাম না।
উপরের বিপদজনক দেশগুলোর মধ্যে অন্তত একটা দেশকে বিপদজনক শীর্ষ ৫ থেকে নামিয়ে ফেলা যায় শুধু মাত্র নিজের দেশের দরিদ্র লোকজনকে আরেকটু ভাল শিক্ষা আর বিভিন্ন রকম কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে। এখন সৌদি বাংলাদেশ থেকে যাদেরকে শ্রমিক হিসেবে নেয়, সেই লোকগুলোই যদি বিভিন্ন পেশায় দক্ষ শ্রমিকে পরিনত হয়, দুই একটা আন্তর্জাতিক ভাষা শিখে, তাহলে সৌদির উপর নির্ভর করতে হবে না। দূরে কাছে অনেক দেশেই দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে। সৌদির প্রভাব মুক্ত হলে বাংলাদেশ স্বাভাবিক ভাবেই আরেকটু স্বাধীন ভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সেই সাথে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নতি হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকৃতপক্ষেই মধ্যম আয়ের দেশের মত হয়ে যাবে।
সংগৃহিত








