পড়ায় মন বসতে চায়না, পড়তে বসলেই ঘুম আসে, নয়তো মাথায় এসে ভিড় করে রাজ্যের চিন্তা। টেবিলে বসে থাকা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিন্তু পড়া আর ফুরোয় না! – এগুলো আজকাল জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সবাই হন্যে হয়ে উপায় খুঁজছে – লেখা পড়ায় মনোযোগী হওয়ার উপায়!
আসলে এটা তেমন কোন রহস্যের ব্যাপার নয়, সাংঘাতিক কঠিন কিছু ও না। কিছু সহজ কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত কৌশল অনুসরণ করেই আপনি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবেন। শুধুমাত্র সকল অলসতা ঝেড়ে ফেলে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই কি সেই উপায় গুলো যাতে আপনার মন আবার ফিরে আসবে পড়ার টেবিলে।
পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার কৌশল
আমি আমার নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করে কিছু মনোযোগ দিয়ে পড়ার উপায় সামনে তুলে ধরছি। আপনারা সেগুলো অনুসরণ করে দেখতে পারেন।
১. জীবনের লক্ষ্য স্থির করা
অধিকাংশ মানুষের লেখাপড়ায় মনোযোগ না বসার প্রধান কারণ হলো “আমি কেন পড়ছি?” এই প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর না থাকা। শুধু পড়ালেখা নয়, পৃথিবীর যেকোনো কাজই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। পড়ালেখা করে আপনি কোথায় পৌঁছাতে চান সেই টার্গেট আপনার আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট করতে হবে। আপনাকে বারবার নিজেকে মনে করাতে হবে, কেন আপনার পড়তেই হবে। আপনাকে জীবনের একটি বড় লক্ষ্য স্থির করতে হবে। শুধুমাত্র পরীক্ষায় কোনভাবে পাশ করে যাওয়া টার্গেট হলে সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার জন্য যথেষ্ট নয়।
২. পড়ার রুটিন তৈরি করুন
রুটিন শব্দটা শুনলেই মনে এক ধরনের একঘেয়ে ও বিরক্তি ভাব সৃষ্টি হয়। কিন্তু পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে রুটিন এর কোন বিকল্প নেই। প্রকৃতপক্ষে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত সহ পৃথিবীর কোন কাজই রুটিন ছাড়া হয়না।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কয়দিন পর পরই রুটিন তৈরি করে! কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, দুই এক দিন মানার পর সেই রুটিন আর মানতে ইচ্ছে করে না! তাই শুধু “পড়তে হবে” এই তাগাদা থেকে কোনরকম একটা রুটিন করে ফেললেই হবে না। রুটিনটা হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকরী। আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয় একটানা সর্বোচ্চ কতক্ষণ পড়তে পারেন সেটা মাথায় রাখতে হবে। একদিনে শুধুমাত্র একটি বা দুটি কঠিন বিষয় রেখে সাথে একটি বা দুটি সহজ বিষয় রাখতে পারেন। যদি আপনার দশ-বারোটি বিষয় থাকে পড়ার মতো তাহলে একদিনে সবগুলো ধরতে যাওয়া বোকামি। দেখা যাবে একটি বিষয়ে আপনার সবেমাত্র মন বসেছে তখনই অন্য বিষয় পড়ার সময় হয়ে গেছে।
৩. টেবিলে বসে পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন
পড়াশোনা থেকে অন্য মনস্ক হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো টেবিলে বসে না পড়া। পড়া হোক বা না হোক একটি নির্দিষ্ট সময় টেবিলে বসে থাকার অভ্যাস করা অত্যন্ত জরুরি। বিছানায় শুয়ে বসে অথবা বিক্ষিপ্তভাবে একটি বই নিয়ে চোখ বুলানো মনোযোগ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। শুয়ে বসে পড়লে কিছুক্ষণ পরে ঘুম ঘুম ভাব আসাটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া এভাবে পড়লে মনে সিরিয়াস ভাবটাও আসেনা!
পড়তে বসার পূর্বেই টেবিলকে সুন্দর করে গুছিয়ে নিন, পড়ার পরিবেশ তৈরি করুন। পড়ার জন্য বই-খাতা-কলম সহ যা যা প্রয়োজন সবকিছু হাতের কাছে রাখুন। যেন বার বার টেবিল ছেড়ে উঠতে না হয়।
৪. টার্গেট বা মিশন সেট করে পড়া
আপনি একদিনে কোন বিষয়ের কত অধ্যায় শেষ করবেন তার একটা টার্গেট সেট করে নিন। একটা অধ্যায় সর্বোচ্চ কত সময়ের মধ্যে শেষ করবেন সেটাও ঠিক করুন। যেমন: “এই অধ্যায়টি আমি এক ঘন্টায় শেষ করব”। টার্গেট ঠিক করার পর তার ওপর অটল থাকুন এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।
মোবাইলের গেমসগুলোতে যেমন এক লেভেল এরপর অন্য লেভেলে যেতে হয়, প্রতিটি লেভেল শেষ করার পর উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে খেললেও বিরক্তি আসেনা। ঠিক তেমনি পড়ার ক্ষেত্রেও ছোট ছোট টার্গেট গুলিতে সফল হলে আপনার উদ্দীপনা ও মনোযোগ বেড়ে যাবে।
৫. ভোরে বা সকালে পড়ুন
মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করার সর্বোত্তম সময় হল সকাল। রাতে একটি ভাল ঘুম দেওয়ার পর সকাল সকাল পৃথিবী কর্মব্যস্ত হওয়ার আগেই বই খুলে বসুন। এ সময় ব্রেইনের কর্মক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাছাড়া আশেপাশের নিরিবিলি পরিবেশ মনোযোগ ধরে রাখতে খুবই সহায়ক হয়।
আপনি সারাদিন খাটাখাটনির পর দিনশেষে যখন পড়তে বসেন, তখন দেহ ও মন ক্লান্ত থাকে। সারাদিনের ঘটনাবলী মস্তিষ্কে চলমান থাকে। এ সময় আপনি যতটা মনোযোগ দিতে পারবেন তার চেয়ে ভোরে মনোযোগ দেওয়া অনেক সহজ। তাই সকালের সময়টাকে কাজে লাগান, দেখবেন দুই তিন ঘণ্টায় অনেক বেশি পরিমাণ পড়তে পারছেন।








