২০০৬ এ আমি প্রথম বার বন্ধুদের সাথে কলকাতার কসবা অঞ্চলের একটা নাইট ক্লাব এ যাই। ওই অঞ্চল টি এক্ষণ কার মতো এত উন্নত ছিল না। নাইট ক্লাব টিও একটি অস্থায়ী শেড এর মধ্যে তৈরী করা হয়ে ছিল। ব্যাবস্থা যদিও ভালই ছিলো । বড়ো ডান্স ফ্লোর এর সাথে জোরে জোরে ডিসকো গান। আর এক সাইড এ মদ এর বার। যথেষ্ট বসার জায়গা। ইত্যাদি। নাইট ক্লাব র সবাই শুধু মদ খেয়ে নাচ করতে যায় সেটা নয়। অনেকে আড্ডা দিতেও যায়।
।
সিনেমা তে যেমন যেমন নাইট ক্লাব দেখানো হয় এটা সেই রকম ছিল না। আসলে পরে জেনেছিলাম হোটেলের মতো নাইট ক্লাবের ও বিভিন্ন লেভেল আছে। মধ্যবিত্ত লোকেদের জন্য কম বাজেট এর নাইট ক্লাব। আমরা যে নাইট ক্লাব এ গিয়েছিলাম সেটা কম বাজেটের মধ্যে পড়ত। তখনই সেটার টিকিট ছিলো প্রতি রাতে ২৫০০ টাকা। ২০০৬ এ কিন্তু সেটা অনেকটাই বেশি মনে হতো। তাতে আনলিমিটেড খাবার, মদ আর ডান্স, পার্কিং ইত্যাদি। যদিও মদ মানে সাধারণ ব্র্যান্ডের মদ যেমন অফিসার্স চয়েস, ম্যাকডোনাল্ড ইত্যাদি। ভালো দামী মদ গুলো কিনে খেতে হতো। প্রচুর মজা করে ছিলাম।
।
পরবর্তি কালে আরো অনেকবার নাইট ক্লাবে গিয়েছিলাম। চার মাস আগেও আরো একবার গিয়েছিলাম। আমি কলকাতা, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর এবং গোয়া তে নাইট ক্লাব ঘুরেছি। প্রত্যেক শহরে নতুন অভিজ্ঞাতা সংগ্রহ করেছি।
ভারতের নাইট ক্লাব সম্মন্ধে আমার কিছু অভিজ্ঞতার এবং আমার জানা তথ্য শেয়ার করছি।
১. সিনেমা তে যেমন নাইট ক্লাব গুলো দেখায় বাস্তবে নাইট ক্লাব গুলো অতটা জমকালো হয় না। বড়ো লোকদের নাইট ক্লাব গুলো হোয়ত অনেক জমকালো হয়। আমার সেই অভিজ্ঞাতা নেই।
২. নাইট ক্লাবে সাধারণত সবাই গ্রুপ করে বন্ধুদের সাথে বা প্রেমিক প্রেমিকা অথবা স্ত্রী দের সাথে যায়। কেউ কেউ হয়ত এক যায় তবে বোজা মুসকিল। একা গেলে মদ খেয়ে লোক দেখে আনন্দ করতে পারেন।
৩. নাইট ক্লাব গুলো হলো অসামাজিক কার্যকলাপ এর আখড়া। তাই পরিচিত অপরিচিত সবার সাথে সাবধানে থাকতে হয়। যারা নিয়মিত নাইট ক্লাবে যায় তারা সব বোজে এবং অবস্থা হ্যান্ডেল করতে পারে। যারা কখনো কখনো যায় তাদের সাবধানে থাকতে হয়।
৪. অনেক নাইট ক্লাবে মেয়ে পাওয়া যায়। যারা টাকার বিনিময়ে পুরুষদের সঙ্গ দেয়। তাদের ছুঁতে পারবেন না। কিন্তু সে তার সঙ্গীর সঙ্গে খাওয়া দাওয়া নাচ করে। তবে সাধারত এজেন্ট দের মাধ্যমে এই রকম মহিলা পাবেন। জানা পরিচিতি না থাকলে এই সব এজেন্ট দের খুজে পাবেন না। অনেক সময় এজেন্টরাই খদ্দের খুঁজে নেয়। তবে সাবধানে থাকতে হয় কারণ অপরাধীদের হাতে পড়লে সর্বস্ব যাবে। আমি সি রকম কিছু ঘটনা শুনেছি।
৫. নাইট ক্লাব গুলো তে যদিও ১৮ বছরের নিচে কেউ কে ঢুকতে দেয় না। কিন্তু অনেকেই ম্যানেজ করে ঢুকে পড়ে।
৬. নাইট ক্লাব গুলো তে কল গার্লস পাওয়া যায় তা সব সময় শুনি। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু বোজা যায় না। কে যে কল গার্লস আর কে যে সাধারণ মহিলা সেটা কোনো ভাবেই বাইরে থেকে বোজা সম্ভব নয়।
৭. অনেক নাইট ক্লাবে পর্দার আড়ালে ড্রাগের ব্যাবসা হয়। পরিচিতি না থাকলে তার নাগাল পাওয়া যায় না।
৮. অনেক জায়গায় যৌণ সঙ্গী বদল ( wife swapping ) এর মতো জিনিষ হয়ে থাকে। কিন্তু কি ভাবে হয় বাইরে থেকে বোজা যায় না। দিল্লি তে যখন ছিলাম তখন আমার এক বিবাহিত মহিলা বস ছিলেন। তার সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে ছিল এবং এক্ষণ বেশ কিছুটা আছে। তিনি বলেছিলেন যে তিনি আর তার স্বামী এই রকম একটা গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলেন। নাইট ক্লাব ই তারা সঙ্গী বদল করে ওই হোটেলের রুমে চলে যেতেন।
৯. নাইট ক্লাবে মহিলাদের প্রতি বিশেষ ভাবে নজর দেয়া হয়। মহিলাদের উত্যক্ত করা হলে সোজা বাউন্সার দের সাহায্যে বাইরে বের করে দেয়া হয়।
১০. নাইট ক্লাব গুলোও কিন্তু এক রকম নেশার মতো। নাইট ক্লাব কে মোটেই তথাকথিত ভদ্র লোকের জায়গা বলা যায় না। সেখানে ভদ্রতার মান দণ্ড আলাদা।
১১. ছোকরা থেকে বুড়ো সব ধরনের লোকই কিন্তু নাইট ক্লাব যায়। এমন কিছু লোকেরা পরিবার নিয়েও যায়।








