রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: প্রতিবন্ধকতা উত্তরণে অবদান রাখায় দেশসেরার স্বীকৃতি পেয়েছে কুড়িগ্রামের সুখাতী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। এ পর্যন্ত বিদ্যালয়টির বিশেষ চাহিদাস¤পন্ন ৫ জন শিশু স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। সুস্থ হওয়ার পথে আরও ২৩ জন শিশু। এ বিদ্যালয়টির উদ্যোক্তা হলেন আলমগীর হোসেন (৩০) নামের এক যুবক। তিনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সুখাতী গ্রামের সৈয়দ আলী ও চায়না বেগম দ¤পতির ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আলমগীর হোসেন সবার বড়। শৈশব থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করার অদম্য ইচ্ছায় তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিকে দেশসেরা স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। আলমগীর হোসেন ২০০৭ সালে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময় আশপাশের মানুষদের বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় শিশুদের কষ্ট লাঘবে কাজ করবেন তিনি। এরপর আলমগীর বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর স¤পন্ন করেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের উপর বিশেষ কোর্স করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ৭ বছরে বিদ্যালয়টি ঘিরে আলমগীরের রয়েছে নানা অর্জন। বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে তার প্রতিষ্ঠানে ২৩ জন স্বেচ্ছাসেবক নামমাত্র সম্মানিতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে আলমগীর হোসেনের তিলে তিলে গড়ে তোলা সুখাতী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। চাচাতো বোনের বিশেষ চাহিদা স¤পন্ন সন্তানকে দেখে তিনি ঠিক করেছিলেন সমাজের এসব অবহেলিত শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন। বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুললেন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সামাজিক সেবা নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে অনেকে কাজ করলেও, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে তেমন কাজ করছে না কেউ। শুরু করলেন তার এলাকার অটিজম ও অটিস্টিক বাচ্চাদের নিয়ে কাজ। শুরুতে সুখাতী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয় টিন শেডের ভাড়া করা একটি কক্ষে সব কার্যক্রম চলতো। রুম ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে অনেক বেগ পেতে হতো আলমগীর হোসেনকে। ১৬ জন বিশেষ চাহিদাস¤পন্ন শিশুকে নিয়ে তার পথচলা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ১১০ জন শিশু রয়েছে। পরে ভাড়া ঘর ছেড়ে তার দাদুর দান করা ২০ শতক জমির উপর গড়ে তুলেছে স্বপ্নের বিদ্যালয়। আলমগীর হোসেন বলেন, গত ৭ বছরে সুখাতী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয় থেকে সেরিব্রাল পালসি সমস্যার ৫ জন শিশু পরিবারের কাছে ফিরেছে স্বাভাবিক হয়ে। বর্তমানে আরও ২৩ জন অটিস্টিক শিশু রয়েছে সুস্থতার পথে। এর মধ্যে ১৭ জন শিশু স্বাভাবিক হয়ে মূলধারার বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে পড়াশোনা করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি থেকে ইতোমধ্যে ৭৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ও ২০০ বিশেষ চাহিদা স¤পন্ন শিশুকে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আলমগীর হোসেন সমাজ সেবা অফিস থেকে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সামাজিক সেবা সংগঠনের নামে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বিদ্যালয়ের সেবামূলক কাজগুলো পরিচালনা করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে গত ৪ বছর ধরে ঝুলে আছে তার বিদ্যালয়টির স্বীকৃতির আবেদন। বিদ্যালয়টি পরিচালনা করতে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। আয় হয় প্রায় ২২ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক, কর্মচারীসহ মোট ২৮ জন কর্মরত। কাউকে নিয়মিত বেতন দিতে পারছি না। প্রতিষ্ঠানটি আমার স্বপ্ন। দিন যত যাচ্ছে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। আমার দরকার বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি এবং নিয়মিত অনুদান পাওয়ার নিশ্চয়তা। সব শর্ত মেনে আবেদন করা হলেও এখনো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি মেলেনি। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোকুনুল ইসলাম বলেন, সুখাতী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও
অটিজম বিদ্যালয় একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন নামে রেজিস্ট্রেশন করা।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








