রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় উপকরনণ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে রোগি ও স্বাজনরা। বাইরে থেকে চিকিৎসার সব উপকরণ ক্রয় করতে হচ্ছে রোগীদের। একবার ডায়ালাইসিস করতে তিন হাজার টাকার উপকরণ ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে ডায়ালাইসিস করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগিদের। অর্থের অভাবে অনেকের ডায়ালাইসিস বন্ধ রয়েছে। কারও কারও শারীরিক অবস্থার মারাত্নক অবনতি হয়েছে। গত ১০ দিনে ৮ কিডনি রোগি মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিডনি রোগি ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চিকিৎসার যন্ত্র ছাড়া কোনও উপকরণ নেই। সবকিছু বাইরে থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেও কোনও উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে না। উপকরণ ক্রয় করতে না পারায় সপ্তাহে দুই বারের পরিবর্তে মাসে একবার ডায়ালাইসিস করছেন দরিদ্র রোগিরা। যারা প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করতে পারছে না, তাদের চিকিৎসা চলছে না। এতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে কারও কারও মৃত্যু হচ্ছে বিনা চিকিৎসায়।ডায়ালাইসিস বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক বলেন,কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ডায়ালাইসিস সেবা অনেকটা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। রংপুর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে আসা সালমা বেগম হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, চিকিৎসা উপকরণ ক্রয় করতে না পারায় আমার ডায়ালাইসিস হচ্ছে না। শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারছি না। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, একজন কিডনি রোগি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সপ্তাহে দুদিন করে ৪৮ বার ডায়ালাইসিস করাতে পারেন। এটি রোগিদের প্যাকেজ সুবিধা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যাদের দুটো কিডনি বিকল, একমাত্র তাদের সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করানো হয়। আগে সব ধরণের উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হতো। প্রায় দেড় মাস ধরে প্রত্যেক রোগিকে ডায়ালাইসিসের সব উপকরণ বাইরে থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। সব উপকরণ বাইরে থেকে ক্রয় করে আনলে ডায়ালাইসিস করানো হয়। এসব উপকরণ ক্রয় করতে ২৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সপ্তাহে দুবার করলে ছয় হাজার টাকা লাগে। সে হিসাবে মাসে আটবার ডায়ালাইসিস করতে ২৪ হাজার টাকা লাগে। একজন রোগির পক্ষে এ ব্যয় বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ডায়ালাইসিস রোগি ও তাদের স্বজনরা বলেন, কেউ কেউ সব উপকরণ ক্রয় করতে না পারায় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। গত ১০ দিনে আট রোগির মৃত্যু হয়েছে। অনেকে এসব উপকরণ বাইরে থেকে ক্রয় করতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। অথচ এসব উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা ছিল। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে ডায়ালাইসিস করতে আসা মনোয়ারা বেগম বলেন, তিন হাজার টাকার উপকরণ ক্রয় করতে না পারায় মাসে আটবারের পরিবর্তে চারবার ডায়ালাইসিস করছি। এতে আমার শারীরিক অবস্থার মারাত্নক অবনতি ঘটেছে। এভাবে আরও কিছুদিন চললে মারা যাবো। গাইবান্ধা থেকে আসা শাহজাহান আলী বলেন, দুটি ছাগল ও একটি করে গরু বিক্রয় করে উপকরণ ক্রয় করে ডায়ালাইসিস করাচ্ছে। এখন আর কোনও উপায় নেই। পরিবারের সক্ষমতা নেই, এত টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করানোর। এখন বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে। শাহজাহান আলী বলেন, সরকার কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি রংপুর মেডিক্যালের ডায়ালাইসিস চিকিৎসাসেবার এ দুরবস্থার কথা জানেন না। তাহলে কেন জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আমরা কি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবো? ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের এক নার্স বলেন, এখানে ২৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন আছে। সবগুলো সচল। কিন্তু উপকরণ সরবরাহ না থাকায় অনেকের পক্ষে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হচ্ছে না। আগে রোগিদের জায়গা দিতে পারতাম না। এখন রোগি নেই। যারা আসছে তারা বাইরে থেকে সব উপকরণ ক্রয় করে চিকিৎসা নিচ্ছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, কিছুদিন হলো আমি যোগদান করেছি। অনেকদিন ধরে ডায়ালাইসিস চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। গত ১০ দিনে ৮ কিডনি রোগি মারা যাওয়ার তথ্য তার কাছে নেই।
১৪ দিন ধরে নিখোঁজ বনপাড়ার ব্যবসায়ী মাহাবুল আলম!
১৪ দিন ধরে নিখোঁজ বনপাড়ার ব্যবসায়ী মাহাবুল আলম! নাটোর প্রতিনিধি: ব্যবসার কাজে ঢাকায় কাওরান বাজার যাওয়ার পর ১৪ দিনেও খোঁজ...








