।
লেখক: মুজিব রহমান
।
কিছু বাংলাদেশি পুরুষ এই প্রবন্ধ গুলো কে চটি গল্প বলে।
নারীদের সম্পর্কে ধারণা রাখেন না এমন পুরুষ নারীর পায়ের গোড়ালি দেখেও যৌনকাতরতা বোধ করতে পারেন। আমাদের এক বন্ধু স্কুল জীবনে জানিয়েছিল, টিনের চালের ছিদ্র দেখেই সে যৌনকাতর হয়ে পড়েছে। সম্পূর্ণ পর্দা অনুসরণ করেও ফেনির নুসরাত তারই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক যৌন হয়রানীর শিকার হন এবং প্রতিবাদ করায় তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গত রমজান মাসেও প্রচুর সংখ্যক শিশুকে বলাৎকার বা ধর্ষিতা হতে দেখি। ঘটনাগুলোর অনেকগুলোই ঘটিয়েছেন ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ। বিশেষ করে ধর্ম শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েই ওই শিশুরা আক্রান্ত হন। এই শিশুকন্যারা পর্দানশীন হয়েই গিয়েছিল। রমজান সিয়াম সাধনার মাস। আত্মসংযমের সময়েও তাহলে কেন এমন ঘটনা ঘটলো?
ইউরোপে দেখি ভিন্ন চিত্র। মিনি স্কাট পরে মেয়েরা গটগট করে চোখের সামনা দিয়ে হেঁটে গেলেও পুরুষদের চোখ নির্লিপ্তই থাকে। আমাদের সমাজে মিনিস্কাট পরে কোন মেয়ে হেঁটে গেলে মনে হয় সর্বনাশ হয়ে যাবে পুরুষদের। উত্তরবঙ্গে দেখেছি অসংখ্য মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। কেউ এ নিয়ে এখন আর ঝামেলা করে না। এক স্কুলে গিয়ে মেয়েদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা কিভাবে এমন বিপ্লব ঘটালো?
খুবই সহজ উত্তর ছিল, সে তার বোনকে দেখেই সাইকেল চালাচ্ছে। আর বোন চালাচ্ছে এনজিওতে চাকরি করার কারণে।
জানতে চেয়েছিলাম, কোন সামাজিক চাপ আছে কি না? অর্থাৎ কেউ কিছু বলে কি না?
মেয়েটি নির্লিপ্তভাবে বলেছিল, নাহ, কে কি বলবে?
কেউ কিছু বলবে সেটা তার ভাবনাতেই নাই। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমার মেয়েকেও সাইকেল কিনে দিলাম বাড়ি স্কুলের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও। কিন’ আমাদের গ্রামের পুরুষদের অনভ্যস্ত চোখ সেটা সহ্য করেনি। বহু মানুষই তাকে কটুকথা বলতো। সে সাইকেল চালানো ছেড়ে দেয়।
তাহলে নারীদের নিয়ে সমস্যাটা কোথায়?
তাদের নিয়ে পুরুষদের এবং পুরুষদের নিয়ে নারীদের ধারণা না থাকাই প্রধান সমস্যা। আজ মেয়েরা অধিকাংশই সাধারণ সেলোয়ার কামিজ ওড়না পড়েই চলাফেরা করেন। এটা সমাজ গ্রহণ করে নিয়েছে। আমাদের তরুণরা ইউরোপ-আমেরিকায় গিয়ে হঠাৎ স্বল্পবসনা নারীদের দেখে বিচলিত বোধ করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তারাও স্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করেন। মিনিস্কাট তাদের আর যৌন তাড়িত করে না, তারা বিচলিত বোধ করেন না।
সাধারণত শাড়িতে মেয়েদের পেট/নাভি দেখা যায়। স্কার্ট শার্টে পেট/নাভি দেখা যায় না। দেখা যায় হাটুসহ পা। আমাদের চোখ শাড়ি দেখে অভ্যস্ত কিন’ স্কার্ট দেখে অভ্যস্ত নয়।
বাঙালি তরুণ তাবৎ পৃথিবীর তরুণদের মতোই যথাসময়েই যৌন তাড়না বোধ করে। অধিকাংশ তরুণই শুরু করে সমেহন। কিন’ তাদের যাবতীয় শিক্ষা জীবনে সমেহন নিয়ে একটি বাক্যও পড়তে হয় না। শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশেই তা পাঠযোগ্য নয় বলেই বিবেচনা করা হয়। একবার নাকি ইন্দোনেশিয়ার পাঠ্যবইতে সমেহন নিয়ে লেখা হয়েছিল। তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা সরিয়ে নেয়া হয়। আমরা যখন ছোট তখন হঠাৎ করেই আসে নীল ছরি আগ্রাসন। লোকজন ভিসিপি ভাড়া করতো সারা রাতের জন্য। পরিবারের লোকজন নিয়ে সন্ধ্যা থেকেই সাধারণ হিন্দি বা বাংলা ছবি দেখতো গোটা তিনেক। এরপর তারা দেখতো নীল ছবি। শুনেছি খাটের উপর বসে বড় ভাইরা নীল ছবি দেখতো আর ছোট ভাইরা দেখতো খাটের তলায় গোপনে ঢুকে থেকে। এসবই শুনেছি একজন নীল ছবির ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। এই নীল ছবি দেখে অন্তত যুবকরা শিখতো কিভাবে সেক্স করতে হয়।
আমাদের এলাকায় এক বিয়ে পাগলা ছিল। তিনি তার নতুন বউকে নিয়ে আসলেন। এলাকার কিছু তরুণের খায়েস হলো দেখা, তিনি কিভাবে কি করেন? তরুণরা ঘাপটি মেরে থাকতো। যখনই লোকটি ঘরে ঢুকতো ওরা ভাঙ্গা বেড়ার ছিদ্র দিয়ে তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়টি অবলোকন করতো। নীল ছবি নিয়ে আলোচনা করার সময়ই জানলাম ঘটনাটি। ওরা জানালো লোকটি স্ত্রীকে কোন ভাবে প্রস’ত করতো না। গিয়েই স্রেফ স্ত্রীকে ধর্ষণই করতো। সম্ভবত স্ত্রীও ভাবতো স্বামীর সাথে সেক্স করা এমনই কঠিন ও বিরক্তকর। মানে হলো ভদ্রলোক এতোগুলো বিয়ে করেও শিখেনি বিষয়টি।
যেসব দম্পতি সন্তান না হওয়ার জন্য ডাক্তারের কাছে যান তাদের একটা সমস্যা থাকে স্বামী স্ত্রী যথাযথভাবে মিলিত হতে পারেন না। ডাক্তার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে কথা বলেই বুঝে ফেলেন এবং সঠিকভাবে শারীরিক সম্পর্ক করার পরামর্শ দেন।
বিজ্ঞানের ছাত্ররা প্রাণিবিজ্ঞানে শুধু পরুষ ও স্ত্রী জননাঙ্গ সম্পর্কে একটা ধারণা পান। ডক্টর হুমায়ুন আজাদ তার নারী বইতেও এমন বিষয়ে একটু বিস্তারিত লিখেছিলেন বলে বইটিই নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বইটি আলোর মুখ দেখে। সমরেশ বসুর প্রজাপতি উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, একেবারেই খামোখা। বুদ্ধদেব গুহর বাবলীসহ দুএকটি উপন্যাসে সামান্য যৌনতা আছে। তবে নিশ্চিত বলতে পারি আমাদের লেখকগণও এ নিয়ে লিখতে অভ্যস্ত নন আবার সামাজিক ভয়ও পান। অথচ ভারতেই লেখা হয়েছে ‘কামসূত্র’।
বছর পঞ্চাশেক আগেও আমাদের মেয়েদের শিশু কালেই বিয়ে হতো। তারা স্বামীর ঘরে গিয়েই পড়তো স্বামীর ধর্ষণের মুখে। একজন পৌঢ়া নারীর মুখে শুনেছি যৌনতায় যে সুখ আছে এটা তিনি কোনদিনও বুঝতে পারেন নি অথচ ততদিনে তিনি ৩৫/৩৬ বছর স্বামীর সাথে সহবাস করেছেন। শিশু বধূরা স্বামীর ধর্ষণ থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে পিতার বাড়ি চলে যেতো। শুনেছি তারা শ্বাশুড়ীর আঁচলের নিচে লুকিয়ে থাকতে চাইতো। এমনকি সন্ধ্যা হলে তিনি ঘরের পেছনে লুকিয়ে থাকতেন। স্বামী তাকে খুঁজে ঘরে নিয়ে আসতো ধর্ষণ করার জন্য। শিশুটির পরিবারও ঠেলে দিতো ধর্ষণের মুখে। এভাবে বহু নারীরই যৌন জীবন থাকতো স্রেফ আতঙ্কের। এরা বয়ষ্কা হলে কষ্টটা হতো না কিন’ থাকতো নিরানন্দময়।
পুরুষদের জন্য সমস্যাটা এখনকার মতো প্রকট ছিল না। কদিন আগে আমার একজন ২৬ বছর বয়সী জুনিয়র বন্ধু এক আড্ডায় খুবই উচ্ছ্বাসের সাথে জানালো, একটি মেয়ে তাকে এই প্রথম চুমু খেয়েছে। চুমু খাওয়াটা তার ভাল লেগেছে, ভালোইতো! আগে বাংলাদেশ জুড়ে পতিতালয় ছিল। অনেক যুবকই প্রথম যৌন অভিজ্ঞতা অর্জন করতো ওখান থেকেই। একজন নারীর জন্য পতিতাবৃত্তি অবমাননাকর বলেই যৌনকর্মীর পেশাটা সমর্থন করি না। তবে শেখার জন্য এমন একটি সুযোগ মন্দ ছিল না। আমাদের অধিকাংশ তরুণেরই প্রথম যৌন অভিজ্ঞতা হয় বিয়ের পরেই এবং তা সারাজীবন চলে ওই একজনের সাথেই।
বিবিসির একটা জরিপ দেখলাম। ইউরোপের একজন নারী যৌনতার ভিন্ন স্বাদের জন্য স্বামী ছাড়াও আরো পুরুষের সাথে সেক্স করে। পুরুষরাও একইভাবে অন্য নারীর সাথে সেক্স করে। বিবিসির সাক্ষাৎকারে একটি মেয়ে বলেছিল, সে অন্তত নয়টি ছেলের সাথে সেক্স করেছে। আমেরিকার একজন নারী জানিয়েছিল, সংখ্যাটা তিন হাজার হবে। আমাদের নারী-পুরুষ ধর্মীয় কারণেই স্বামী স্ত্রীর বাইরে কারো সাথে সাধারণত সম্পর্কে জড়ায় না। এটা খুবই নিন্দার চোখে দেখা হয়। গোপনে কেউ নয়ছয় করলেও ধরা পড়লেই বিপদ। সিলেটে নূরজাহানকে স্বামীকে তালাক না দিয়ে আরেকটি বিয়ে করার মিথ্যা অভিযোগে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছিল।








