রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সাব প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও সেই সব কেন্দ্র কোনো সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রের (কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্ট) বেহালদশা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। কয়েক বছর ধরে এ সাব প্রাণিসম্পদ অফিসের বেহালদশা থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবার শতশত হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খামারিগণ। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণ, ঔষধ ও জনবল সংকটের কারণেই কয়েক বছর ধরেই নিমজ্জিত হয়ে পড়ে আছে সরকারি এ প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রটি। উপজেলার শুধু বামনডাঙ্গা ইউনিয়নেই তালিকাভুক্ত গরুর খামার রয়েছে ৬০ টিরও বেশি। এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে আরও ছোট বড় প্রায় ১৫০টির বেশি হাঁস মুরগি,গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে। বর্তমান সরকার যখন দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করতে ছাগল পালন, হাঁস মুরগীর খামার, গবাদী পশু পালনের জন্য জনসাধারণকে আগ্রহী করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে সরকারি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অসচেতনতা ও অবহেলায় যেন আগ্রহ হারাতে বসেছে পশু পালনকারীরা। নষ্ট হচ্ছে এ সাব প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন ও সরঞ্জামাদি। প্রয়োজনীয় জনবল ও দেখভালের অভাবে এ প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রটির কার্যক্রম না থাকায় ভুতুরে বাড়ীতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মধ্যে ১টি সাব প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এক সময় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন কৃষক কৃত্তিম প্রজনন, ছাগলের ঠান্ডা কাশিসহ বিভিন্ন ধরণের সেবা নিতে আসতো। এখন কেন্দ্রটির ব্যবহার না থাকায় গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে খামারিদের। সরকারী সেবার এ দৈন্যদশার সুযোগে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের নামে হাতুড়ে চিকিৎসকের ছড়াছড়ি হয়েছে। তাদের হাতে গলাকাটা সেবার শিকার হচ্ছে সাধারণ খামারিরা। খামারি শাহজাহান মিয়া বলেন, আগে এ কেন্দ্র থেকে খামারের গবাদিপশুদের চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হতো। গত কয়েক বছর থেকে এটি বন্ধ থাকায় সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। যার কারণে বিভিন্ন হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করলে সরকারি সেবা ফিরে পাবো। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সেবাদানকারী (এলএসপি) শরিফুল ইসলাম লিটন বলেন, এ কেন্দ্রে এক সময় খামারিদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেত কর্তব্যরত কর্মকর্তাগণ। এখন সেবাকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে কেউ নেই। নেই সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরাঞ্চাম। ফলে সাধারণ মানুষ ছুটে চলছে হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে এবং হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাব প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রটি ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষের পশু পাখির চিকিৎসার এক মাত্র ভরসা ছিল। তবে গত কয়েক বছর ধরে সেটির সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটি জেলা পরিষদের জায়গায় অবস্থিত। ভবনটি যদি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভিতর থেকে ভেঙ্গে অন্য কোথাও নির্মাণ করাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সুদৃষ্টি দেয় তালে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু রাখা সম্ভব।








