টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও ২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৩৪ কেন্দ্রর মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৫টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সব কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে ৩ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে। বৃহস্পতিবার ইভিএমের মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১৫ মার্চ) রাতে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এলেঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৫৫৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৭৫৬ জন, মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ৭৯৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন। এ পৌরসভায় মোট কেন্দ্র ১৫টি। ভোট কক্ষ রয়েছে ১০৪টি। নির্বাচনে ১ জন জুডিসিয়াল ও ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী লীগের নুর-এ আলম সিদ্দিকী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাফী খান (জগ) ও এলেঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি (বিদ্রোহী) রেজিনা আখতার (নারিকেল গাছ)।
এ নির্বাচনে নৌকার জয়ের পথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এলেঙ্গা পৌরসভাজুড়ে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিষয়টি। শেষ পর্যন্ত জয়ের মাল্য পড়বেন কে তা নিয়েও চলছে জোর গুঞ্জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এলেঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জয়ে একমাত্র বাঁধা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজিনা আখতার। অন্যদিকে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এতো জটিলতার মধ্যে মেয়র পদে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী শাফী খান। তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। সাফী খান এ পৌরসভার প্রথম মেয়র ও এলেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুই দুইবারের চেয়ারম্যান।
ঘাটাইল উপজেলায় সাগরদিঘী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৩৯ জন এবং সংরক্ষিত পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ১৯ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৭৮৪ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৮৮৪ জন। নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ৯টি ও ভোট কক্ষ রয়েছে ৫১টি। নির্বাচনে ১ জন জুডিশিয়াল ও ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
নাগরপুর উপজেলায় ভারড়া উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ২৩ হাজার ৯৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ২৭৬ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১১ হাজার ৭০৭ জন। নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ১০টি ও ভোট কক্ষ রয়েছে ৬৮টি। নির্বাচনে ১ জন জুডিশিয়াল ও ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৯ কিংবা ৮ জন করে পুলিশ এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ৬ জন কিংবা ৭ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ৯ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে কেন্দ্রের বাইরে বিজিবি, র্যাব এবং পুলিশের ট্রাইকিং টিম কাজ করবে। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করতে পর্যাপ্ত সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, বিগত সময়ের মতো এবারও নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধ হবে।






