আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ব্যানারে করা কথিত মানববন্ধন নিয়ে মিশ্রুপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন, প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে। জানা গেছে, সম্প্রতি ডাবলু সরকারের কথিত একটি অশ্লীল ভিডিও নিয়ে তার বিরুদ্ধে এসব মানববন্ধন করা হয়েছে।অথচ ডাবলু সরকার নিজেই বলেছেন ওই ভিডিও তার নয় এটা সুপার এডিট করে রাজনৈতিক ভাবে তাকে হেয়ওপ্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার । এমনকি ওই ভিডিওর বিরুদ্ধে তিনি থানায় মামলা করেছেন। এটা ডিজিটাল যুগ চাইলে যে কেউ এখন সুপার এডিট করে যে কারো বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও ছড়াতে পারেন এটা অসম্ভব নয়। এছাড়াও ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করে মনে হয়েছে এটা সুপার এডিট করা ভিডিও।কারণ ভিডিওতে ডাবলু সরকারের যে শরীর দেখানো হয়েছে, তাতে শরীরের ওপরের অংশের সঙ্গে নিচের অংশের বিস্তর পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সব থেকে বড় কথা যেখানে ডাবলু সরকার নিজেই বলছে ওই ভিডিও তার নয়,তার পরেও জোর করে সেটা তার ভিডিও প্রমাণ করতে মরিয়া একটি চক্র এর হেতু কি ? আর আওয়ামী লীগের ব্যানারে যারা মানববন্ধন করছে, তারা কারা ? মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক বা সাংগঠনিক সম্পাদকগণ কি আছে, যদি না থাকে তাহলে সেটা কি আওয়ামী লীগের স্বীকৃতি পায়। এছাড়াও ডাবলু সরকারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন মানে তো সেটা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ যদি সত্যিও হয় তবে সেটা নিয়ে রাজনীতিকরণের কোনো সুযোগ নাই। কারণ রাজনৈতিকভাবে দেখলে দেখতে হবে তিনি দায়িত্বে থেকে দল,নেতা ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করেছেন কি না। ডাবলু সরকার তো কখানো সেটা করেননি। বরং ডাবলু সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির দুর্গ রাজশাহীকে আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও ডাবলু সরকারের যদি কোনো অপরাধ থাকে তাহলে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করা যেতেই পারে, দলের সাংগঠনিক সভায় অনাস্থা আনতে পারে, কিন্ত্ত এসব না করে দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত ব্যতিত তার চরিত্র হনন করে প্রকাশ্যে লোক সমাজে বিষোদগার করা মানে সেটা তো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করার সামিল।এছাড়াও দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদে ডাবলু সরকার মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক হয়েছেন, সেই বিবেচনায় তিনি তো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীরই প্রতিনিধি। তাহলে যারা তাকে নিয়ে মানহানিকর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও রাজনীতি থেকে সরাতে চাচ্ছেন তারা তো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীতা করছেন তাই নয় কি।
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে, সুত্র বলছে, জেলা আওয়ামী লীগের বিপদগামী এক বগী নেতা জামায়াত-বিএনপির কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাদের বি-টিম হয়ে কাজ করছে। যেখানেই আওয়ামী লীগের শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে, সেখানেই সেই নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে। এসব করতে গিয়ে ইতমধ্যে জেলার পদপদবী হারিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেকটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। জেলার রাজনীতিতে তার অস্থিত বিলীন। এখন সে মহানগরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার স্বপ্ন নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে ডাবলু সরকারের মতো আদর্শিক নেতৃত্বকে কুলষিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সামনে রাজশাহী সিটি নির্বাচন এই মুহূর্তে ডাবলু সরকারের মতো নেতৃত্ব সরিয়ে দিলে আওয়ামী লীগের লাভ না ক্ষতি। সেটা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে। কারা কেনো ডাবলু সরকারের মতো নেতৃত্বেকে সরাতে প্রাষাদ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
এখন প্রশ্ন যেই নেতা জেলার রাজনীতিতে দেউলিয়া ও জনবিচ্ছিন্ন। সেই নেতা কি বিবেচনায় ডাবলু সরকারের মতো আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সরিয়ে সেই স্থানে অভিষিক্ত হবার স্বপ্ন দেখে, রাজনৈতিক অর্বাচীন ব্যতিত এমন স্বপ্ন কেউ কল্পনা করতে পারে না। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#
Post Views: 276
Related