তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ‘ মেসার্স সরকার ফার্মেসী গ্রাহকের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের আটকের দাবিতে মৌগাছী বাজারের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় সেখানে টান টান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। গ্রাহকদের অভিযোগ মেসার্স সরকার ফার্মেসীর স্বত্ত্বাধিকারী মোহনপুর উপজেলার বাটুপাড়া গ্রামের ইদ্রিস সরকারের পুত্র আরজেদ সরকার ও তার শ্যালক শাহীন গা-ঢাকা দিয়েছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখার গ্রাহকদের মাঝে আমানত হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এজেন্ট শাখায় গ্রাহকেরা আমানত উঠাতে ভিড় করেছে। ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের এমন প্রতারণায় সচেতন মহল বিশ্ময়ে হতবাক। আর এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন এজেন্ট শাখায়। সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকগণের মধ্যে চরম হতাশা ও আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মৌগাছী বাজারের এজেন্ট শাখার
ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা জানান, এজেন্ট মালিক নিয়মিত গ্রাহকদের কাছে থেকে টাকা নিলেও তা একাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। উপজেলার নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের বাসিন্দা মোজাহার আলী জানান, গত ১৬ মার্চ মোহনপুর কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে মৌগাছি বাজারে ডাচ্ বাংলা এজেন্ট শাখায় ৫০ হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু পরদিন সেই টাকা উত্তোলন করতে গেলে তিনি জানতে পারেন তার একাউন্টে কোন টাকা জমা নেই। হরিফলা গ্রামের মোস্তফা হোসেন জানান, এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়ে উত্তোলন করেন ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে বাকি ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে গেলে তার একাউন্টে মাত্র ১০ হাজার টাকা পান। বাকি টাকা নিয়ে তালবাহানা করতে থাকেন শাখার মালিক। কালিগ্রামের মেহের আলী৷ বলেন তিনি ৮ লাখ টাকা একাউন্টে জমা রাখেন। কিন্তু সেই টাকার জমার রসিদ দিলেও একাউন্টে জমা হয় মাত্র ৫৬ টাকা। বাটুপাড়া গ্রামের শিউলি বেগম জমা রাখেন ৯০ হাজার টাকা। উত্তোলন করেন মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ৫৫ হাজার টাকা তুলতে গেলে একাউন্টে মাত্র ৫ হাজার টাকা আছে বলে জানতে পারেন। এই কারণে তার সংসার ভাঙার উপক্রম। তিনি আর টাকা ফেরত পাননি। মৌগাছি গ্রামের রেজিয়া বিবি ৫৬ হাজার টাকা জমা রেখে ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। বাকি ৫১ হাজার টাকা তিনি আর তুলতে পারেননি। বাটুপাড়া গ্রামের যাদু বেগম ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জমা করেন কিন্তু তার একাউন্টে কোন টাকাই জমা হয়নি। হরিহরপাড়ার মিনারুলের সিলেট ডাচ্ বাংলা ব্যাংক হতে মৌগাছি এজেন্ট শাখায় জমা হয় এক লাখ ৩২ হাজার টাকা কিন্তু কয়েক দিন পর উত্তোলন করতে গেলে জানতে পারেন তার একাউন্টে কোনই টাকা জমা হয়নি। নুড়িয়াক্ষেত্র গ্রামের অনেকে বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন তার টাকা জমাই হয়নি। বিল বকেয়া থাকায় লাইন কেটে দেয়া হয়। এভাবে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন এজেন্ট সরকার ফার্মেসীর মালিক আরজেদ সরকার ও তার শ্যালক শাহিন। গ্রাহকগণ দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে আটক করে টাকা ফেরতের ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আর ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মত সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা হলে জনগণ কার উপর আস্থা নিয়ে আসবে। সুতরাং এসব লুটেরাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। আর শাস্তি না হলে গরীবের রক্ত ঘামানো টাকা খোয়া যেতেই থাকবে। এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম বাদশাহ বলেন, মৌগাছি বাজারে ডাচ্ বাংলা এজেন্ট শাখায় প্রতারিত গ্রাহকদের জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাখাটি তালাবদ্ধ পায়। তবে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #
Post Views: 231
Related