রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদ উল ফিতর কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করেছে রংপুরের জুতা তৈরির (পাদুকা) কারিগররা। দোকান মালিকদের নিকট থেকে পাওয়া অর্ডার অনুযায়ী এখন তারা পণ্য ডেলিভারি দিতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাদুকা তৈরীর কাঁচামালের দাম চড়া থাকায় গতবারের তুলনায় এবার প্রতি জোড়া স্যান্ডেলের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টগণ। রংপুর নগরীর জাহাজ কো¤পানি মোড়ের পাশে রিপোর্টার্স ক্লাব লেনের চারটি ছোট কারখানায় দেখা যায় বিভিন্ন সাইজের স্যান্ডেল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। এছাড়াও নগরীর আরও ১২-১৩টি কারখানার শ্রমিকরা স্যান্ডেল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পূর্বের অভিজ্ঞতায় ঈদের আগের রাতে দোকানগুলোতে স্যান্ডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকায় এখন থেকেই ঘাম ঝড়াতে শুরু করেছে তারা। দুই ফিতা, বেল্ট ও সাইকেল সুজ সাইজের জুতা বা স্যান্ডেল তৈরিতে রাবার কার্টিজ থেকে শুরু করে আঠা বসানো, ফিনিশিং, প্রিন্টিং সবই হচ্ছে কারিগরদের হাতের নিখুঁত ছোঁয়ায়। শুধু সাইড ফিনিশিংয়ের কাজটা হচ্ছে মেশিন দিয়ে। পাদুকা কারিগরগণ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করছে বিভিন্ন সাইজের স্যান্ডেল। সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ তাদের মূল ক্রেতা। ফলে সাইজ ও মান অনুযায়ী প্রত্যেক জোড়া স্যান্ডেল বিক্রয় করা হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। যা গতবারে ছিলো ২৫০-৫৫০ টাকা। নগরীর বিভিন্ন স্যান্ডেলের দোকানে দেখা যায়, দুই ফিতার স্যান্ডেল প্রতি জোড়া সাইজ ভেদে খুচরায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বেল্ট স্যান্ডেল ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় এবং চটি স্যান্ডেল ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে। স্যান্ডেল ক্রয় করতে আসা কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াদ মিয়া বলেন, হাতে তৈরি করা স্যান্ডেল অনেক দিন ব্যবহার করা সম্ভব। গত বছর দুই জোড়া স্যান্ডল ক্রয় করে ছিলাম এবারও এসেছি আমারসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য কয়েক জোড়া ক্রয় করতে। মানিক ট্রেডার্সের কারিগর সঞ্জয় কুমার বলেন, কাজের চাপ অনেক। তাছাড়া টার্গেট আছে মালিকের। বিভিন্ন দেকান থেকে অর্ডার নেওয়া জুতাগুলো ডেলিভারি দিতে হবে ২৫ রমজানের মধ্যে। আর স্যান্ডেল আমাদের নিজস্ব দোকানে খুচরা বিক্রয় করা ছাড়াও আশপাশের ছোট ছোট দোকান ও ঈদের দুই তিন দিন আগে থেকে ফুটপাতে বিক্রয় করা হবে। এ কারণে একটু ব্যস্ততা বেড়েছে। রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ স¤পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন, রংপুর
মহানগরে স্যান্ডেল তৈরির দোকানসহ কাপড় বা অন্যান্য দোকানগুলোতে ঈদের কেনাকাটা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। ১৫ রমজানের পর থেকে এসব দোকানে বেচাকেনা শুরু হবে। তবে বিভিন্ন স্যান্ডেল তৈরির দোকানগুলোতে বেচাকেনা সাধারণত ঈদের ৩/৪ দিন আগে থেকে শুরু হয়।








