রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর চ্যাংমারী গ্রামের মৃত সালাম হোসেনের পুত্র ইব্রাহিম আলীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত কাচু মামুদের পুত্র আব্দুল ওয়াহার গংদের সাথে কয়েক বছর ধরে জমি নিয়ে মামলা চলছে। এরই সূত্র ধরে গত ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইব্রাহিম আলীর চাচাতো ভাই আব্দুল মোমিন গরু ক্রয়ের জন্য হাটে যাওয়ার জন্য বের হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে গেলে প্রতিপক্ষ পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠি, ছোড়া, লোহার রড ও দেশি অস্ত্র নিয়ে তার পথ রোধ করে ২লক্ষ টাকা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয় এবং তার কাছ থেকে জোর পূর্বক অস্ত্রের মুখে ৩টি নন জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যা¤েপ স্বাক্ষর নেয় ও তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। এ সময় তিনি প্রাণ বাঁচানোর জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষ বাড়ির ভিতরে চলে যায়। এ ঘটনায় আব্দুল মোমিন বাদি হয়ে রাজু মিয়াসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আমলী আদালত সুন্দরগঞ্জ গাইবান্ধায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আব্দুল ওয়াহাব বাদি হয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে সুন্দরগঞ্জ থানার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আব্দুল ওয়াহাব এর লোকজন বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় উত্তেজিত হয়ে গত ১৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে আলম মাস্টারের আঙ্গিনায় দলবলসহ উপস্থিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় ইব্রাহিম এর বড় ভাই রেজাউল করিম গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট করলে তার চিৎকারে চাচা ফুল মিয়া, ছোট ভাই ইমাম হোসেন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি মারপিট করা হয়। প্রতিপক্ষের মারপিটে রেজাউল করিম, ইমাম হোসেন ও ফুল মিয়া মারাত্নক ভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম আলী বাদী হয়ে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সাবেক ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মামলায় অভিযুক্ত করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বিষয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।








