রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: শুস্ক মৌসমে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষের পণ্য ও যাতায়াতের বাহন হিসেবে এক মাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। রাস্তাঘাট না থাকায় অধিকাংশ ঘোড়ার গাড়ি চালক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বালুময় রাস্তায় পণ্য নিয়ে ছুটে এক চর থেকে আরেক চরে। শুস্ক মৌসুমে কাট ফাঁটা রোদ্রে কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে সকল পণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ বাহন হিসেবে ভূমিকা রাখছে এ ঘোড়ার গাড়ি আর বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা নৌকা। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা ও নদীতে বর্ষা মৌসুমে নৌকা চললেও গ্রীষ্মে পানি না থাকায় গাইবান্ধা সদরের মোল্লার চর,কামারজানি, সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, তারাপুর, চন্ডিপুরের অংশ বিশেষ, ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর সহবিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১৬৫টি চর এলাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করে না। ফলে চর অঞ্চলের মানুষ বালুময় পথে মাইলের পর মাইল হেঁটে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এমন কি উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিজের কাঁধে করে বাহন করতে হয়। কষ্টকর এমন পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্য সহ সকল ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য ঘোড়ার গাড়িতে করে বহন করছে চরাঞ্চলের মানুষ। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেক পরিবার। প্রবাহমান নদী তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমে প্রায় মরুভূমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এতে করে কাপাসিয়া, হরিপুর,কামারজানি, সাতারকান্দি, রসুলপুর, খাটিয়ামারি, ফুলছড়ি, টেংরাকান্দি, গেন্দুরাম, পারাছাদুয়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল বাহনের একমাত্র অবলম্বন হয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দিন দিন বেড়েই চলছে তাপমাত্রা, শুকিয়ে যাচ্ছে নদ-নদী, কমে যাচ্ছে পানি। চরাঞ্চলে গ্রীষ্ম মৌসুমে চারদিকে চোখে পড়ে শুধু ধূ-ধূ বালুচর। কোথাও যেন পানি নেই, নদী যেন হারিয়েছে তার প্রাণ। জীবন ও জীবিকার তাগিদে চরের মানুষ উদ্ভাবন করেছে ঘোড়ার গাড়ি। ফলে একদিকে মানুষের কষ্ট যেমন কমেছে ঠিক অপর দিকে জীবন যাত্রায় পরিবর্তনও এসেছে। সুন্দরগঞ্জ উজান বড়াইগ্রামের আব্দুস ছালাম মিয়া বলেন, ঘোড়ার গাড়ি চলাচলসহ সকল পণ্য পরিবহন করা হয়। এক ঘোড়ার গাড়ি চালক বলেন, ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। ঘোড়ার খাবারের জন্য তেমন খরচও করতে হয় না। চরে ঘাসসহ কৃষি ফসলের উচ্ছিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যা ঘোড়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়,তবে মাঝে মাঝে ছোলা কেনার জন্য কিছু টাকা ব্যয় করলেই এক সপ্তাহ চলে যায়। ডিসেম্বর মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী শুকিয়ে বিশাল চর জেগে উঠে। এ সময় নদীর নাব্যতা সংকটে প্রায় ২০ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরের মানুষের কাছে ঘোড়ার গাড়ি যাতায়াতসহ পণ্য পরিবহনে একমাত্র ভরসা।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







