তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরে নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের ইমেজ সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনীতিও অনেকটা নিয়োগ বাণিজ্যে নির্ভর হয়ে উঠেছে। এতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, নিয়োগে নষ্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতি। তানোরে আদর্শিক ও হঠাৎ আওয়ামী লীগ মুখোমুখি তৃণমুলে রক্তক্ষরণ ? সামনে সাধারণ নির্বাচন। ফলে যেখানে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি এবং বহুধারায় বিভক্তদের ঐক্যবদ্ধ ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করার কথা। সেখানে সবার দৃষ্টি নিয়োগের দিকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কারো ভাববার সময় নাই। কে কয়টা প্রার্থী দিচ্ছে, কে বেশী টাকা দিবেন এসব নিয়ে চলছে আড্ডা। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায়, সাংসদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি)চেয়ারম্যানগণ আওয়ামী লীগের। কিন্ত্ত তার পরেও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তানদের চাকরি নাই। এখন যদি তারা চাকরি না পাই তবে কি বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠনের পর তাদের চাকরি হবে। অথচ হঠাৎ আওয়ামী লীগ নিয়োগ পক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, আর আওয়ামী বিরোধীরা চাকরি পাচ্ছে, এর মাঝে লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে। কিন্ত্ত আওয়ামী লীগের আদর্শিক ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। একশ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতারুপী তল্পিবাহক এসব নিয়োগ বাণিজ্যে করে পকেট ভারী করছে। আর দলের আদর্শিক এবং দুর্দিনের পরীক্ষিত নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাদের নিয়োগ বাণিজ্যে কারণে এক কথায় বলতে গেলে আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সাংসদের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজক্ষুন্ন হতে চলেছে। অথচ স্থানীয় সাংসদের অবৈধ অর্থল্পিসা নাই সেটা সবাই জানে ও শিকার করেন। আবার উপজেলা চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন যাবত এসব থেকে নিস্ক্রীয়। তাহলে এই সময়ের মধ্যে এসব নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা নিচ্ছেন কে এরা কারা ? দশ বছর পুর্বে এরা কোথায় ও কি পরিচয় ছিল, হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা এরা কি দলের ক্ষতি করছে না উপকারে আসছে। যাদের রক্তেও ঘামে আওয়ামী লীগ আজ এই অবস্থানে তারা তো নিয়োগ বাণিজ্যের কোনো সুফল পাচ্ছে না। তাহলে দলের জন্য রক্ত-ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর কি প্রয়োজন নাই ? যারা বাণিজ্যে করছে তারা তো বাণিজ্যের পর চলে যাবে তখন ? এসব নিয়ে দলের অভ্যন্তরে রিতীমত ঝড় উঠেছে। এখানোই নিয়োগ বাণিজ্যে বন্ধ বা পরীক্ষিতদের হাতে দায়িত্ব দেয়া না হলে আগামিতে দলের জন্য অশনি সঙ্কেত অপেক্ষা করছে।
অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত-বিএনপি মতাদর্শীদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ,চাকরি, ঠিকাদারী ব্যবসা, খাসপুকুর, গভীর নলকুপ অপারেটর ইত্যাদি লাভজনক পদে বসিয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে। আর ছিটকে পড়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমুলের দুর্দীনের পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী মুজিব সৈনিকেরা যাদের ত্যাগ ও রক্ত ঘামে আওয়ামী লীগ আজ এই পর্যন্ত এসেছে। অথচ তাঁরাই আজ বড় অসহায়। অধিকাংশক্ষেত্রে তাদের ঘরে খাবার নাই, ছেলেমেয়েদের চাকরি নাই, চিকিৎসা করানোর অর্থ নাই, নাই কোনো লাভজনক পদ সামনে শুধুই হাহাকার। বিপদে পড়লে কোনো নেতার সান্নিধ্যে এমনকি ফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাহলে এই মানুষগুলো কার কাছে যাবে, না আওয়ামী লীগ করায় তাদের অপরাধ হয়েছে। তৃণমুলের ভাষ্য, দলে হঠাৎ আওয়ামী লীগ তল্পিবাহক
মতলববাজদের অধিক্য ও অপতৎপরতা দেখে তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সূত্রপাত হয়েছে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ যা উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট গুড়িয়ে দিয়ে দলের আদর্শিক-পরীক্ষিতদের সক্রিয় করতে হবে। তা না হলে আওয়ামী লীগ সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে
নির্বাচনের সময়ে হঠাৎ আওয়ামী লীগ গোপণে আওয়ামী লীগ বিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে নৌকা ছিদ্র করার কাজে অর্থবিনিয়োগ করে আওয়ামী লীগের ক্ষতিসাধন করবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সুত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের আদর্শিক, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন
এবং গ্রহণযোগ্যহীণ মতলববাজ ও বির্তকিতদের নানা উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ তারা আর্থিকভাবে ফুলে-ফেপে উঠে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগবিরোধীদের সঙ্গে গোপণ আঁতাত করে আওয়ামী লীগের সুখের ঘরে দুঃখের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের
দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। #
Post Views: 318
Related