অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নরসিংদীতে ছাত্রদলের পদ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাদেকুর রহমান ও আশরাফুল নামের দুই ছাত্রদল নেতা হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এঘটনায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা সহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫/৪০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত সাদেকুর রহমানের ভাই আলতাফ হোসেন বাদি হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন ও রাসেল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের জেলা কমিটি ঘোষনার পর থেকে নিহত জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাদেকুর রহমান ও ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুদ্দিন ভুইয়ার সাথে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও সদস্য সচিব রিফাত এর বিরোধ চলে আসছিল। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রকাশ্যে নাহিদ ও রিফাতকে সমর্থ দিয়ে আসছে।
কমিটি ঘোষনার পর থেকে পদবঞ্চিতরা নিহত সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন,সংবাদ সম্মেলন সহ শান্তিপূর্ন ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে পিকাপ ও প্রায় ১শত মটর সাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। বিক্ষোভ মিছিলটি চিনিশপুর বিএনপির কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল।
মিছিলটি ভেলানগরপার হয়ে চিনিশপুর সড়কে প্রবেশ করা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্রদিয়ে তাদের উপর হামলা করে অনেক নেতাকর্মীকে আহত করে। ওই সময় সন্ত্রাসীরা সাদেকুর রহমানকে ঘেরাও করিয়া খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করেন।
এ ঘটনায় আশরাফুল নামে আরো একজনকে গুলি করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জেলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাদেকুর রহমান মারা যায়। এর ১দিন পর শুক্রবার সাকালে অপর ছাত্রদল নেতা আশরাফুল মারা যায়।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম জানায়, জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা সহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫/৪০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিহত সাদেকুর এর ভাই আলতাফ হোসেন।
উল্লেখ, গত ২৬ ফ্রেবুয়ারী সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে ছাত্রদলের সভাপতি, মাইনুদ্দিন ভুইয়াকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর থেকে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এই জেরে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবীর খোকনের চিনিশপুর বিএনপির অস্হায়ী কার্যালয়ে ভাংচুর ও গুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।





