১জুন’২৩ প্রস্তাবিত হলো দেশের ৫২তম বাজেট। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন-
“এই বাজেট শিক্ষা ধ্বংসের বাজেট। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। উপরন্তু এই বাজেট— মানুষকে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়ার সামিল। কারণ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোয় যেমন বরাদ্দ কমেছে তেমনি শিক্ষাখাতেও কমেছে বরাদ্দ। ইউনেস্কোর মতে, কোনো দেশের জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা উচিত। সেখানে এ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ মাত্র ১.৭৬ শতাংশ ! গত বাজেটে যা ছিল ১.৮৩ শতাংশ। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় এ বরাদ্দ খুবই কম, কিন্তু সরকার এই অর্থ বছরে আরো কমিয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজেটে কম বরাদ্দ শিক্ষার প্রতিটি স্তরেই
মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার অধিকার মৌলিক এবং মানবিক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এ অধিকার তার নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করে। কিন্তু আমরা এর উল্টোটা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র – সরকার একদিকে যেমন শিক্ষা সংকোচনের পথে হাঁটছে – শিক্ষার অধিকার থেকে
নাগরিককে বঞ্চিত করছে। অন্যদিকে বরাদ্দ কমানোর মধ্য দিয়ে পুরো শিক্ষাখাতকে বেসরকারিকরণ- বানিজ্যিকীকরনের পথে নিয়ে যাচ্ছে। যার ভবিষ্যত ফলাফল হবে অন্ধকারময়।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,
“ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল গতকাল তার বাজেট বক্তৃতায় স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য ৪টি স্তম্ভের উল্লেখ করেন- স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি। একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের রুটি-রুজির জোগাড়েই নাকাল। অন্যদিকে স্মার্ট নাগরিক তৈরির পূর্বশর্ত শিক্ষা অথচ স্মার্ট সরকার জনগোষ্ঠীর একটা অংশকে শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত করছে সুকৌশলে। যারা সংসারের অন্যদিকের ব্যয় কমিয়েও ভাবতেন – তাদের সন্তানরা লেখাপড়া
করুক। এখন তাও আর সম্ভব নয়।
আরো উল্লেখযোগ্য দিক হলো ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে যেসকল পণ্যের দাম বাড়বে তার মধ্যে কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণও আছে। দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম চড়া। বাজেটের এই ঘোষণা শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের উপর আরো প্রবল চাপ তৈরি করবে।”
নেতৃবৃন্দ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক- অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করেন।







