আলিফ হোসেন,তানোরঃ
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চলের অনেক এমপি এবার নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হবার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা রয়েছে।
জানা গেছে, আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে তৃতীয় দফায় মাঠ জরিপের কাজ শুরু করেছেন। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই মাঠ জরিপের কাজ তদারকি করছেন। এই মাঠ জরিপের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
সুত্র জানায়, বিগত দিনে নৌকা প্রতীকে এমপি হয়েই এলাকা ছেড়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন বা ঢাকায় বসে ‘সন্ত্রাসী ও মাস্তান’ দিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, কখানো দলের পরিবর্তে এমপি লীগ, ভাই লীগ বানাতে ব্যস্ত ছিলেন, এছাড়াও স্বজনপ্রীতি আর পরিবারের সদ্যরা লুটপাটে সিদ্ধহস্ত, সাধারণ মানুষের জমিদখল, বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক গালী, নারী কেলেঙ্কারি,
দুর্নীতি, লুটপাট, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ মাঠঘাট দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ রয়েছে এমন এমপি-মন্ত্রীরা এবার নৌকার কান্ডারি হতে পারছেন না বলে দলের ভেতর -বাইরে জোর আলোচনা রয়েছে।
সুত্র জানায়,আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অভিযোগে অভিযুক্তরা যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন না তা অনেকটা নিশ্চিত। কারণ দলীয় হাইকম্যান্ড বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন এমপিদের বাদ দেওয়া এবং ক্লিন ইমেজ ও এলাকায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নৌকার প্রার্থী করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগে দুই দফা এবং কাউন্সিলের পরেও এক দফা মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দলের সভাপতি শেখ হাসিনার টেবিলে জমা হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপির তালিকা।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবার তাদের নিশ্চিত কপাল পুড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, মামলা-হামলা করে হয়রানি, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে ‘এমপি লীগ’-‘ভাই লীগ’ বলয় সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন এলাকাবিমুখ থেকে জনবিচ্ছিন্ন নেতায় পরিনত হয়েছে। নিয়োগ-টেণ্ডার বাণিজ্য, জলমহাল-বালুমহাল ও জমি দখল, লুটপাটের মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছেন তাদের কপাল পুড়ছে। আবার অনেকেই এমপি নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় বসে ‘সন্ত্রাসী ও মাস্তান’ দিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। কারও কারও বউ, শ্যালক, ভাই, আত্মীয়স্বজন ‘ছায়া এমপি’ হয়ে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার নামে ভাগ বাটোয়ারায় ব্যস্ত থাকেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলীয় অনেক এমপির মধ্যে দেখা দিয়েছে গা-ছাড়া ভাব। সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলেও তারা এলাকায় যান না, খোঁজখবর নেন না নির্বাচনি এলাকার জনগণের। খোঁজখবর নেন না স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও। তারা বেশিরভাগ সময় কাটান রাজধানী ঢাকায়। আবার কেউ বছরের দীর্ঘ সময় বিদেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ান। অথবা থাকেন নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ দেখা বা শোনার সময় নেই তাদের।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,রাজশাহী অঞ্চলে
আওয়ামী লীগের যেসব এমপি স্থানীয় নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষের খোঁজখবর কম নেন আছে নানা বিতর্ক তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) সাংসদ প্রকৌশলী এনামুল হক ও রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) ডাঃ মুনসুর রহমান। তাদের বিকল্প নেতৃত্বের দাবিতে তৃণমুল একক্ট্রা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর (এমপি) কোনো বিকল্প নাই তিনি এবার নৌকার টিকেট পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। ওদিকে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শাহরিয়ার আলম (এমপি) এবারো নৌকার টিকেট পাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদী। অন্যদিকে জোটগত নির্বাচন হলে রাজশাহী সদর আসনে ফজলে হোসেন বাদশা (এমপি) আবারো নৌকার টিকেট পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছে নেতাকর্মীগণ। এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অনিল কুমার বলেন, মনোনয়ন দিবেন দলের মনোনয়ন বোর্ড। তার আগে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে যে কেউ প্রচারণা করতেই পারেন। তিনি বলেন, তাদের একটাই টার্গেট নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা। এবিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরিফ খাঁন বলেন, রাজশাহী-১ আসনে ফারুক চৌধুরী এমপির কোনো বিকল্প নাই। তিনি বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি নয় নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।#
Post Views: 326
Related