রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ কর্মী সোনা মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ৫ জুন সোমবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল ইসলামের আদালতে আত্নসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। পরে কঠোর পুলিশি পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রংপুরের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বিকালে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে একটি বিদ্যালয় মাঠে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা শ্লোগান দেন। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার পক্ষে শ্লোগান না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউনিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং তার সমর্থকরা বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান শেষ না করেই বাণিজ্যমন্ত্রী ওই স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুর রাজ্জাক ও তার বড় ভাই রাজুর নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা ব্যক্তিরা হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চার নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মুকুল মিয়ার ভাই সোনা মিয়াকে বাজারে একা পেয়ে দেশি অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
করেন। নিহত সোনা মিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ নয়াটারী গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি হারাগাছ ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে সোনা মিয়ার ছেলে আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি এবং তার ভাই হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদসহ ৭৬ জনের নামে এবং অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ কর্মী সোনা মিয়ার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে হারাগাছে এবং রংপুর শহরে কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। পিপি আব্দুল মালেক বলেন, আসামি রাজ্জাক হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। সোমবার আদালতে আত্নসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।






