ভারতীয় নারী হিসেবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যৌনতা নিয়ে কথা বল্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমাজের নিয়মে মেয়েরা যৌনতা নিয়ে আলোচনা করে না। কিন্তু একদিকে কামসূত্রের জন্ম যে ভূমিতে সেখানে মেয়েরা যৌনতা নিয়ে মুখ খোলে না! এরকম দ্বিমতের প্রচলন কেন? আমাদের প্রগতিশীল অতীত নিয়ে জামার কলার তুলে কামসূত্র নিয়ে আওড়াই কিন্তু এখনও মেয়েদের সেক্স নিয়ে খোলাখুলি আলোচনাকে মেনে নিতে পারি না। বর্তমানে ভারতের বেশ কিছু অংশে একটি মুক্তচিন্তা ও স্বাধীনতার ঢেউ উঠে আসছে। যা সমাজে এবং সম্পর্কে মহিলাদের স্থান পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। কিন্তু ভারত এখনও তাদের রীতিনীতির আড়ালে মহিলাদের পিছিয়ে রাখছে।
দিনের শেষে ২০২২ এ থাকি বা ২০৯০ সালে, যৌনতা এমন একটি জিনিস যা চিরস্থায়ী। আর আজকের দিনে মহিলাদের যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষদের কর্তৃত্ব সহ্য করার অপশন মুছে গিয়েছে। যৌন সম্পর্কে সুখ পেতে মহিলারা এখন স্বাধীনভাবে ভাবতে পারে। এখন যৌনতা শুধুমাত্র পুরুষদের কথা বলার বিষয় এমনটা নয়। নারীরাও তাদের যৌন তৃপ্তি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে, প্রকাশ্যে মতামত রাখতে শুরু করেছে। প্রাচীন পুঁথি কামসূত্রও আসলে মহিলাদের সুখ প্রাপ্তিরই খোঁজ দেয়, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞ সীমা আনন্দ।
কামসূত্র আসলে যোউন্তা শেখানোর পুঁথি না, আদতে নারীদের তৃপ্তি দেওয়ার পন্থা বাতলে দেয় কামসূত্র। অথচ সেই নারীরাই আজ বহুযুগ পরেও সেক্স নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সমাজের চোখে সংস্কারী নন। এই চিন্তাকেই বদল আনতে সীমা আনন্দ বুঝিয়েছেন নারীদের যৌন্তা নিয়ে কথা বলা কতটা জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে নারী পুরুষ সমানাধিকারের জন্য সংগ্রাম চলেই যাচ্ছে। নিজের শোওয়ার ঘরেও এই অধিকার বাদ দেওয়া চলবে না। এটাই সঠিক সময়, কামসূত্রের মতো প্রাচীন লেখনী থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। মেয়েদের যৌনতা নিয়ে আরও দৃঢ় ভাবনা চিন্তা প্রয়োজন। কারণ যৌনতা মানুষের আনন্দ এবং সুখী জীবনের একটি অঙ্গ বলে মনে করেন সীমা আনন্দ। স্বর্গসুখ পাওয়ার মতো তৃপ্তির কথা বলে কামসূত্র। আর এই তৃপ্তি নিয়ে মহিলাদের আরও বেশি সরব হওয়া আবশ্যক।








